শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে পূজামণ্ডপের আশপাশে হকার ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের বসতে না দেওয়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মশক নিধন এবং সড়কের খানাখন্দ সংস্কারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনের কনফারেন্স রুমে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্বকালে মেয়র এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, নগরীর আন্দরকিল্লা, দেওয়ানবাজারসহ যেসব এলাকায় পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হবে, সেসব মণ্ডপের আশপাশে কোনো হকার বা ভাসমান ব্যবসায়ী বসতে পারবেন না। পূজামণ্ডপের শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মেয়র আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের হকার ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।
মেয়র বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এ উৎসব যেন নগরবাসী নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে চসিকের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। পূজামণ্ডপ ও এর আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে না দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সভায় পূজামণ্ডপসংলগ্ন এলাকাগুলোর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন মেয়র। পূজা উদযাপনে প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত সহায়তা প্রদানের জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেন তিনি। পাশাপাশি মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে পূজামণ্ডপের আশপাশে মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন সিটি মেয়র।
নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সড়কে চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়ে মেয়র আগ্রাবাদ মোড় থেকে জাদুঘর মোড় পর্যন্ত সড়কের খানাখন্দ সংস্কার এবং মিড আইল্যান্ড সংস্কার করে সেখানে ফুলের গাছ লাগানোর নির্দেশনা দেন। এছাড়া নগরীর যেসব এলাকায় অবৈধ হকার ও দখলের কারণে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, সেসব এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, স্পেশাল এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রকৌশলীবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।










