চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন নেইমার। আর তার ফেরার সম্ভাবনাকে ঘিরেই বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে ব্রাজিল–স্কটল্যান্ড ম্যাচকে ঘিরে। গ্রুপ ‘সি’–এর শেষ ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২৫ জুন বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় ফ্লোরিডার হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।
দুই ম্যাচে এক জয় ও এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল। সমান পয়েন্ট মরক্কোরও। তবে অবস্থানগত সুবিধা নিয়ে এগিয়ে আছে সেলেসাওরা। অন্যদিকে দুই ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ড। নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে ব্রাজিলের প্রয়োজন শুধু একটি ড্র। তবে জয় পেলে সরাসরি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পরের রাউন্ডে উঠবে কার্লো আনচেলত্তির দল। স্কটল্যান্ডের জন্যও ম্যাচটি সমান গুরুত্বপূর্ণ। পয়েন্ট পেলেই তাদের নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে।
প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ৩–০ গোলের বড় জয় পেয়েছে ব্রাজিল। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফেরা স্কটল্যান্ডও শুরুতে দারুণ ছন্দে ছিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে মরক্কোর কাছে ১–০ গোলে হেরে কিছুটা চাপে পড়ে তারা।
ব্রাজিল শিবিরের সবচেয়ে বড় খবর নেইমারের প্রত্যাবর্তন। ডান পায়ের কাফ ইনজুরির কারণে আগের দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি এই তারকা ফরোয়ার্ড। তবে তিনি এখন অনুশীলনে ফিরেছেন এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তি ফিরেছে। আক্রমণভাগে নেইমারের সঙ্গে লুকাস পাকেতা, ভিনিসিয়ুস ও রদ্রিগো হতে পারেন ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়া ফুটবলার।
অন্যদিকে ব্রাজিলকে রুখতে হলে স্কটল্যান্ডকে রক্ষণভাগে প্রায় নিখুঁত ফুটবল খেলতে হবে। ম্যাচ–পূর্ব বিশ্লেষণও ব্রাজিলকেই এগিয়ে রাখছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৭১ শতাংশ। স্কটল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১১ শতাংশ, আর ড্রয়ের সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ।
অতীতের রেকর্ডেও ব্রাজিলের একচ্ছত্র আধিপত্য। দুই দল এখন পর্যন্ত ১০ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ৮ ম্যাচে জিতেছে ব্রাজিল, বাকি দুটি ড্র। এই ১০ ম্যাচে ব্রাজিলের গোল ১৬টি, স্কটল্যান্ডের মাত্র ৩টি। দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০১১ সালের ২৭ মার্চ একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। সেবারও ২–০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল ব্রাজিল।
ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও সামপ্রতিক পারফরম্যান্স–সবকিছুই ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে চমকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। স্কটল্যান্ড নামবে ইতিহাস বদলের লক্ষ্য নিয়ে, আর ব্রাজিল চাইবে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখে নকআউট পর্বে জায়গা পাকা করতে।











