চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও শহীদ মোহাম্মদ শাহ হল সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন– তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত দেব এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের অর্ণব দত্ত। তারা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ ব্যাচের (২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী এবং সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, দুপুরে অর্ণব ও শান্ত অন্য বন্ধুদের সঙ্গে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামেন। উভয়েই সাঁতার জানতেন এবং গোসলের একপর্যায়ে তারা সাঁতরে পুকুরের এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মাঝপুকুরে পৌঁছানোর পর অতিরিক্ত ক্লান্তি ও শারীরিক অবসন্নতার কারণে তারা পানির গভীরে তলিয়ে যান। সহপাঠী ও আশপাশের হলের শিক্ষার্থীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ঘটনার প্রায় ৮–১০ মিনিট পর একজনকে উদ্ধার করা হয় এবং অপরজনকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করতে প্রায় ৪০–৫০ মিনিট সময় লাগে। উদ্ধার করে তাদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে এবং পরবর্তীতে নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ঠিক দুই সপ্তাহ আগে, গত ২৮ জুলাই রাতে একই পুকুরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছিলেন যন্ত্রকৌশল (এমই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একই স্থানে পরপর তিনটি তাজা প্রাণের অকাল প্রয়াণে পুরো চুয়েট ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া, সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভের।
এদিকে জোড়া মৃত্যুর ঘটনার পর সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুর ঘাটটি টিন দিয়ে ঘিরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পানিতে নামার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সতর্কবার্তা টাঙিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি সেচ পাম্প দিয়ে পুকুরের পানি অপসারণ করা হচ্ছে, যা পাশে দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।











