নলকূপের পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু

বিকালে খেলতে গিয়েছিল বোনের সাথে, সাড়ে চার ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি

রাউজান প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ

রাউজানের কদলপুরে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি। গতকাল বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম। শিশুটির নাম মেজবাহ। সে নলকূপের গর্তের কাছাকাছি একটি বাড়ির সাইফুল ইসলামের ছেলে। জানা গেছে, জয়নগর গুচ্ছ গ্রামের ছোট্ট শিশু মোহাম্মদ মেজবাহ বড় বোন নিমুমনির সাথে টিলা ভূমির বাড়ি থেকে বিকালে খেলতে গিয়েছিল বাড়ির পাশে খোলা জায়গায়। খেলতে খেলতে মেজবাহ পাশের লতাপাতা ঢাকা একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পা পিছলে পড়ে যায়। সে যখন গর্তের গভীরে চলে যাচ্ছিল তখন মা মা চিৎকার করে লতাপাতা আঁকড়ে ধরে উপরে উঠার চেষ্টা করছিল। তার বোন তখন ভাইয়ের অবস্থা দেখে চিৎকার করতে থাকে। তা শুনে সেখানে ছুটে যায় পাড়ার লোকজন। তারা শিশুটিকে উদ্ধার করতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিস ও থানায় ফোন করে। এই ঘটনার সংবাদ পেয়ে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ, সেনা সদস্যরা। শিশুটির জীবন বাঁচানোর তাগিদে গর্তে লাগানো হয় অক্সিজেন পাইপ, শুরু হয় গর্তের বাইরে থেকে খনন কাজ। সেখানে ছুটে গিয়ে উদ্ধার কাজ তদারকিতে ছিলেন রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি অংছিং মারমা, সহকারি পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম।

স্থানীয় জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানা যায়, যেই গর্তটিতে মেজবাহ তলিয়ে গেছে সেটি ছয় বছর আগে খনন করা একটি ডিপ টিউবওয়েলের পরিত্যক্ত গর্ত। এটি লতাপাতায় ঢেকে ছিল। সেই গর্তটি অনিরাপদ অবস্থায় থাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। গতকাল রাত আটটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় উদ্ধারকারী দল শিশুটিকে বাঁচানোর তাগিদে গর্তের ভেতর অঙিজেন পাইপ সংযুক্ত করার পাশাপাশি খনন কাজ শুরু করে। পরে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সার্চ ভিশন ক্যামেরার সাহায্যে টিলাভূমির উপরিভাগ থেকে প্রায় ২০–২৫ ফুট নিচে মেজবাহর অবস্থান সনাক্ত করে। ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ উৎসুক মানুষ ভিড় জমায়। শিশুটির পিতা ইলেকিট্রক মিস্ত্রি সাইফুল আলম ঘটনাস্থলে আহাজারি করছিলেন। মা রাশেদা বেগম টিলার উপর থাকা বসতঘরে বিলাপ করছিলেন। সর্বশেষ তথ্যে চট্টগ্রাম জেলা ফায়ার সার্ভিস–৩ জোনের উপসহকারি পরিচালক আবদুল মান্নান জানান, পড়ে যাওয়ার প্রায় চারঘন্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে আনা হয়। জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটি মারা গেছে। ডিপ টিউবওয়েলে পরিত্যক্ত গর্তের বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী রহমত উল্লাহ বলেন, গুচ্ছ গ্রামে আমাদের একটি নতুন টিউবওয়েল বসানো হয়েছিল। পাশের পরিত্যক্ত গর্তের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।

মেজবাহর বাবা সাইফুল আলম বলেন, আমি ছেলেকে খেলতে বসিয়ে দোকানে যাই। এরমধ্যে আমার ছেলে নলকূপের গভীর গর্তে পড়ে যায়। আমি দোকানে না গেলে এই বিপদ আসতো না। তার বোন বলে, ভাই গর্তে পড়ে গেলে আমার হাত ধরে ফেলে। কিছুক্ষণ পর ভাইয়া চিৎকার করতে করতে গর্তে ঢুকে যায়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে চায় ব্যাংকগুলো
পরবর্তী নিবন্ধকুতুবদিয়ায় প্রকাশ্যে হাঙ্গর বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা