তোমার কথা ভাবিয়াছি শত, হে মহাকবি
তোমার কন্ঠ রুদ্ধ আজকে, এখনো আয়নায় বাঁধা ছবি?
চুরুলিয়া হতে যুদ্ধের মাঠে তুমি সৈনিক
বন্দুক ছেড়ে ধরেছ কলম, ক্ষুরধারা নির্ভীক।
তোমার শ্যেন দৃষ্টি সদা বিঁধিয়াছে বান
বক্ষ বিশীর্ণ হয়, শঙ্কায় শাইলক টলটলায়মান
তুমি কি আবার এসেছ ফিরিয়া গরিবের আঙিনায়
খুঁজেছ কি তাদের, কুলি মজুরের ধন করিয়া লুণ্ঠন
নিজের পেট পূজায়
উৎপীড়িতের কন্ঠে তুমি জ্বালালে বহ্নি শিখা
শোষক তোষক প্রমাদ গুনে খুঁজিয়া না পায় দিশা
‘গুয়েভেরা’ ‘কাস্টোর’ হাত ধরে তুমিও মুক্তি পাগল
এক সুরে গাহিলে যে গান ‘ভাঙ ভাঙ আগল’
হতাশায় বুকে তুমি দিয়েছো নতুন প্রাণ
ম্যান্ডেলার কন্ঠে শুনেছি তোমার গান।
ব্রিটিশের কারাগারে জিঞ্জির পায়ে টলে নি তোমার প্রাণ
নির্ভীক চিত্তে শুনিয়ে দিয়েছো ‘শেকল ভাঙার গান’
সহাসমরে নির্ভয় ছোড়া কামানের তুমি গোলা
আধ মরাদের জীবনে দিয়েছো প্রচণ্ড একটি দোলা
মঞ্চে দাঁড়িয়ে আঙুল উঁচিয়ে বাংলার ‘পাশার ডাক’
তুমি দিয়েছিলে ‘চল চল চল’ হায়দারি হাঁক
তুমি আছো, তুমি থাকবে, শোষণের হয়নি অবসান
সে কোন মূর্খ বলিয়া বেড়ায় তোমার মহাপ্রয়াণ?
তোমার বিরহে এখনো কান্দে ‘গুবাক তরুর সারি’
নীরবে নিভৃতে কান্দে আত্মীয় যেন ফিরে আসো তাড়াতাড়ি
কাব্যজগতে বাক্যচয়নে উদ্যোমী অভিযাত্রী শুধু একটি দিঘির
জলে করে করেনি স্নান সাগর–মহাসাগর সেচে মুক্ত আহরি
সাজিয়াছে সুর যাহার যেখানে সেখানেই দিয়েছে স্থান
তোমার দুচোখ আজও অন্ধকারে অভয় রবি
‘তকমার’ ধার ধারনি বলে হওনি বিশ্ব কবি।










