ডেঙ্গু মহামারি থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে কাজ করে যেতে হবে

| সোমবার , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ

ডেঙ্গু বর্তমান সময়ের এক অন্যতম আতঙ্কের নাম। চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বলাটা জরুরি যে, আমাদের শহর-নগরগুলোতে মশা এখন সারা বছরের সমস্যা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব মহামারি রূপ নিয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এরই মধ্যেই গত ২২ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে জানা গেছে। তিন জনের মৃত্যুর খবরে উদ্বেগ বাড়ছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রামে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে এই দুই রোগীর মৃত্যু হয় বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন চমেক হাসপাতালে আরো একজনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একদিনে ৩ রোগীর মৃত্যু হলো চট্টগ্রামে। এর মধ্যে দুজন চমেক হাসপাতালে এবং বাকি একজন এভারকেয়ার হাসপাতালে। একদিনেই তিনজনের মৃত্যু উদ্বেগ বাড়িয়েছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগে। বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ২ জন রোগীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান। আর চলতি মৌসুমে হাসপাতালে এ পর্যন্ত চারজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান চমেক হাসপাতাল পরিচালক।
এদিকে, চমেক হাসপাতালের চারজনসহ চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত মোট ৫ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে চট্টগ্রামে। বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে অপর এক রোগীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।
আজাদীর প্রতিবেদনে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরীর বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি নিয়ে আমরা চিন্তিত। যদিও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছিলাম। আর মশক নিধন বা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। এটি সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। সিটি কর্পোরেশনকেও আমরা বিষয়টি অবহিত করেছি। তবে এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সিভিল সার্জন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও, তা ততটা কার্যকর হয়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো শহরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলছে। একই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের অন্য শহরগুলোতেও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের জন্য এটা বিব্রতকর যে গত ৫০ বছরেও মশা সমস্যার কোনো সন্তোষজনক সমাধান হয়নি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, যথাযোগ্য জনবল সমস্যা। সিটি করপোরেশনের কোনো প্রশিক্ষিত জনবল নেই। মেডিকেল কীটতত্ত্ববিদ নেই। মশা নিবারণ, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের জন্য এখন পর্যন্ত সরকার কোনো পলিসি, নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি। তাঁরা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যর্থতার পেছনে দায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতা। সরকার মশক নিবারণ কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান গঠন করতে পারে। যারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বয় করে মশক দমনে ভূমিকা রাখবে।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরীর বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই, নগরে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ কমাতে এডিশ মশার বংশ বিস্তার রোধে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো সিটি করপোরের্শনের। সিটি করপোরেশনকেই মশার বংশ বিস্তার রোধে কাজ করতে হবে। ডোবা নালা পরিষ্কার রাখতে হবে। ময়লা আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। নগর জুড়ে মশার ওষুধ ছিটাতে হবে। শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। কিন্তু সিটি করপোরেশনের নেই দায়িত্ব পালন করতে পারছে বলে মনে হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বয় করে মশক নিধনে পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। এ ছাড়া ডেঙ্গু মহামারি থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে হবে।