ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে কাপ্তাই রাঙামাটির আসামবস্তি সেতু

৩ টনের অধিক ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ

কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই | শনিবার , ৪ জুলাই, ২০২৬ at ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

কাপ্তাই রাঙামাটি নতুন সড়কের উপর নির্মিত অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় আসামবস্তি সড়ক। প্রায় এক হাজার ফুট দীর্ঘ সেতুটি কাপ্তাই লেকের উপর বাঁকানোভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণ শৈলীর কারণে সেতুটি সড়ক যোগাযোগের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে। প্রতিদিন শতশত বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়ে বিপুল সংখ্যক পর্যটক এই আসামবস্তি সেতুতে সময় কাটাতে আসেন। তাছাড়া কাপ্তাই রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সড়কটির ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।

কিন্তু এই আকর্ষণীয় সেতুটি এখন বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। সেতুর নিচের বেশ কয়েকটি পিলার দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেতুর একটি পিলারের মধ্যে আরেক পিলারের যে সংযোগ রয়েছে সেই সংযোগ গুলোতেও ত্রুটি ধরা পড়েছে। যে কারণে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ গত ১৫ জুন থেকে সেতুটির সংস্কার কাজ শুরু করেছে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সেতুর উপর দিয়ে ৩ টন ওজনের অধিক ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে সেতুর একপ্রান্তে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে এই সেতুর উপর দিয়ে ভারী যান চলাচল করতে পারছেনা। স্থানীয়রা জানান, সেতুটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও সড়কের বিভিন্ন স্থানে ত্রুটি থাকায় অনেক আগে থেকেই আসামবস্তি সেতুর উপর দিয়ে যাত্রীবাহী বাস ট্রাক ইত্যাদি চলাচল বন্ধ ছিল। বর্তমান ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা হবার পর অনেক ছোট গাড়িও এই পথে শঙ্কা নিয়ে চলাচল করছে। রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুপা চাকমা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে এই সেতুর উপর দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত পরিবহণ করা হয়। এলজিইডির সাইনবোর্ড টাঙানোর পর থেকে সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করতে খানিকটা হলেও ভয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে আমাদের।

স্থানীয় দোকানী পরেশ চাকমা বেলন, সেতুটির দুই প্রান্তেই ত্রুটি রয়েছে। কাপ্তাই থেকে আসার পথের দিকের প্রান্তে অনেক আগে থেকেই ১০/১২ট ছোট ছোট স্পিড ব্রেকার বসানো হয়েছিল। সেতুর এই অংশ কিছুটা নিচের দিকে দেবে গেছে বলেও অনুভূত হচ্ছে। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর উপর দিয়ে ৩ টনের অধিক ভারী যান চলাচল কতদিন নিষিদ্ধ থাকবে সেটিও অনেকে জানতে চান।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, দীর্ঘ ব্যবহারের পর যে কোন সেতুতে সামান্য ত্রুটি দেখা দিতেই পারে। আমরা অনেক আগেই সেতু সংস্কার কাজ শুরু করেছি। সেতুর সংস্কার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। কাজ সমাপ্ত হতে কতদিন সময় লাগবে তা তিনি সঠিকভাবে বলতে না পারলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্কার সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজাতীয় সংসদই হোক সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু
পরবর্তী নিবন্ধমানুষের আস্থা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে উত্তম চরিত্র