ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত’ ট্যাগ দেয়া ছাত্রদলের দেউলিয়াত্বের প্রকাশ : সাদিক কায়েম

সিএমপি কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ

ছাত্রশিবিরকে আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে ছাত্রদল ‘ট্যাগিং ফ্রেমিং’ করছে বলে দাবি করেছেন ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েম। ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত’ ট্যাগ দেয়াকে ছাত্রদলের দেউলিয়াত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে গত মঙ্গলবার ছাত্রদল ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা করেছে দাবি করে দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে গতকাল বুধবার সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীকে স্মারকলিপি দেয় ছাত্রশিবির। সিএমপি কমিশনারের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন সাদিক কায়েক। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এসময় ‘গুপ্ত’র সাথে ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে সাদিক কায়েম বলেন, এটা হল তাদের একটা দেউলিয়াত্ব। জুলাইয়ের পরে সবাই চেয়েছিল একটা নতুন রাজনীতি। আমরা যদি ছাত্রদলের রাজনীতি দেখি, আল্টিমেটলি তারা নতুন কোনো বয়ান হাজির করতে পারে নাই। আগের ফ্যাসিবাদের যে রাজনীতি সেই রাজনীতিই আমরা তাদের কাছে দেখতে পাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যে নতুন রাজনীতি চায়, সে রাজনীতি তারা বিনির্মাণ করতে পারে নাই। এখন আদর্শিকভাবে তারা অমাদেরকে মোকাবিলা করতে না পেরে, বিভিন্ন ধরনের ট্যাগিং ফ্রেমিং করছে। এবং যে শব্দ দ্বারা ফ্রেমিং করা হচ্ছে, আল্টিমেটলি এটা দ্বারা সূত্রপাত হয় নাই।

তিনি বলেন, নব্বইয়ের পর যেভাবে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের উপর হামলামামলা, পেশীশক্তির রাজনীতি, সেই রাজনীতি এখন তারা আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসতে চায়। আমরা জুলাইয়ের প্রজন্ম বেঁচে থাকতে এই ক্যাম্পাসগুলোতে কেউ যদি পেশীশক্তি, সন্ত্রাস কায়েম করতে চায়, আমরা তাদের রাজনীতি করতে দেব না। আমরা তাদের লাল কার্ড দেখাব।

সাদিক কায়েম বলেন, আমরা তাদেরকে (পুলিশকে) স্পষ্টভাবে বলেছি, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ চাই। ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে এসে হকিস্টিক, চাপাতি অথবা দেশীয় অস্ত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নির্যাতননিপীড়ন করা, সেই ধরনের হামলার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে যেন শনাক্ত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হয়। তিনি বলেন, শিবিরের ওয়ার্ড সভাপতি আশরাফুল ইসলাম এখন সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। চাপাতি দিয়ে মেরে তার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা তাকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আরো অনেকের মাথায় বুকে আঘাত করা হয়েছে। এই হামলার সাথে যারা জড়িত আমরা সকল ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। এসকল ফুটেজ আমরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।

সাদিক কায়েম বলেন, উনাদের (পুলিশ) কাছে জিজ্ঞেস করেছি, গতকালকে আমরা দেখতে পেয়েছি পুলিশের সামনেই এই ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা বহিরাগত নিয়ে এসে চাপাতি দিয়ে হকিস্টিক দিয়ে তারা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করছিল। ওই সময়ে পুলিশ কেন নীরব অবস্থায় ছিল? ফ্যাসিবাদী আমলে ছাত্রলীগ যখন শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করত তখন আমরা দেখতে পেয়েছিলাম পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তারা নীরব থাকত। জুলাই বিপ্লবের পরে এই ধরনের হামলাকে কীভাবে পুলিশ বৈধতা দেয়?

সাদিক কায়েম বলেন, আমরা তাদেরকে বলেছি, যারা এধরনের দায়িত্ব অবহেলা করেছে, পুলিশের সদস্য যারা ওখানে উপস্থিত ছিল, হামলার সময় ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদেরকে বাধা দেয় নাই, তাদেরকে যেন বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হয়। আমরা কয়েকটা দফা তাদেরকে দিয়েছি।

সাদিক কায়েম বলেন, তারা (পুলিশ) আমাদেরকে বলেছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তারা বলেছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স। আমরা এখন দেখতে চাই তাদের কথা ও কাজের মধ্যে মিল আছে কিনা। এই জায়গায় যদি ব্যর্থ হয়ে যায় তাহলে আমরা মনে করব রাষ্ট্র ওই ধরনের সন্ত্রাসীদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আমাদের যারা আহত হয়েছে, যারা ভিকটিম তারা এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করবে। সেই মামলার প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি আজকে এখানে শিবিরের প্রতিনিধি হিসেবে আসিনি। ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি। ডাকসুর ভিপি হিসেবে এসেছি। এই ধরনের সন্ত্রাস ক্যাম্পাসে বন্ধ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়াকে নির্দেশ দিতে হবে সুস্পষ্টভাবে। যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, তাকে নির্দেশ দিতে হবে। এই সন্ত্রাস চলবে না। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা আসে পড়াশোনা করার জন্য। শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য। ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য রাজনীতির নামে চাপাতি, রামদা নিয়ে ঘুরবেন, হামলা করবেন তারপর দায়মুক্তি পেয়ে যাবেন এটা হবে না।

স্মারকলিপিতে ছয় দফা : সিএসমপি কমিশনারকে দেয়া স্মারকলিপিতে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ছয় দফা দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকশিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপি দেয়ার আগে সাদিক কায়েম মঙ্গলবারের ঘটনায় আহত শিবির কর্মীদের দেখতে যান বেসরকারি হাসপাতালে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিরোধী দল চক্রান্ত করছে, ভোটাররা আঙুল চুষবে না : সংসদে ওয়াদুদ ভুইয়া
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামসহ দেশের কোনো ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি করতে দেয়া হবে না