বিশ্বকাপে অনবদ্য পারফর্ম করে ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়া কেপ ভার্দের তারকা গোলরক্ষক ভোজিনিয়া চিলির সান্তিয়াগো বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানানো হয়। চিলির রেকর্ডসংখ্যক লিগ চ্যাম্পিয়ন দল ‘কোলো–কোলো’–তে যোগ দিতে রোববার রাতে সেখানে পৌঁছান ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। বিমানবন্দরে প্রিয় তারকাকে এক নজর দেখতে এবং স্বাগত জানাতে ‘কোলো–কোলো’র শত শত সমর্থক ভিড় জমান। চিলির ক্লাবটির সঙ্গে ভোজিনিয়া আপাতত ছয় মাসের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন, যেখানে পারফর্ম্যান্সের ভিত্তিতে চুক্তির মেয়াদ আরও এক মৌসুম বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।সমর্থকদের এমন উন্মাদনা দেখে অভিভূত ভোজিনিয়া সামাজিক মাধ্যম এক্সে ‘কোলো–কোলো’র শেয়ার করা এক ভিডিওতে বলেন, ‘সত্যি বলতে, এখানে পৌঁছাতে আমার বেশ কিছুটা দেরি হওয়ায় এত মানুষ পাব বলে আশা করিনি। তবে ভক্তদের এই ভালোবাসা ও উপস্থিতি দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।’ বিশ্বকাপে নামার আগে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ‘শাভেস’–এ খেলতেন ভোজিনিয়া। তবে বিশ্বকাপের ঠিক আগে তিনি কোনো ক্লাবের চুক্তিতে ছিলেন না, অর্থাৎ সম্পূর্ণ ফ্রি–এজেন্ট হিসেবে টুর্নামেন্টে খেলতে নেমেছিলেন।
কিন্তু বিশ্বমঞ্চে এই ক্ষুদ্র আফ্রিকার দেশটির হয়ে তার অবিশ্বাস্য গোলকিপিং পুরো ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। প্রথমবার বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া কেপ ভার্দে তাদের প্রথম ম্যাচেই টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে বড় চমক দেখায়। পরবর্তীতে শেষ ৩২–এর লড়াইয়ে সেসময়ের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে হেরে বিদায় নেয় তারা। পুরো টুর্নামেন্টে পোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ভোজিনিয়া। ভোজিনিয়ার আসল নাম জোসিমার হোসে এভোরা দিয়াস। বিশ্বকাপের পারফর্ম্যান্স দিয়ে রাতারাতি ‘ইন্টারনেট সেনসেশনে’ পরিণত হন তিনি। বিশ্বকাপের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ছিল ৫০ হাজারের কম। কিন্তু বিশ্বকাপের পর তার অসাধারণ নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়ে ভক্তদের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকে, যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটিতে (৩০ মিলিয়ন)। ৪০ বছর বয়সে জীবনের নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে চলা এই গোলরক্ষককে কেন্দ্র করে এখন উন্মুখ হয়ে আছে চিলির ফুটবলপ্রেমীরা।











