চট্টগ্রামে ৭ লাখ ৪০ হাজার ২১২টি পশু কোরবানি হলেও ৩ লাখ ২৮ হাজার ৭৭২টি চামড়ার কোনো হদিশ নেই। এসব চামড়ার বেশিরভাগই মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। ক্রেতার অভাবে এবার চট্টগ্রামের বহু এলাকায় চামড়া বিক্রি হয়নি, যেখানে বিক্রি হয়েছে তাও পানির দরে। অথচ দেশের এই মূল্যবান সম্পদকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় রক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এবার চট্টগ্রাম মহানগরী এবং জেলায় মোট ৭ লাখ ৪০ হাজার ২১২টি পশু কোরবানি হয়েছে। দেশে বছরে ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়। এর ৬০ শতাংশই আসে কোরবানি থেকে। কিন্তু দিনে দিনে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকছে যে, কোরবানির চামড়া বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এবারের কোরবানিতে প্রচুর পশুর চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
চট্টগ্রামে কোরবানি পশুর চামড়াগুলো নগরীর আতুরার ডিপো, হামজারবাগ, মুরাদপুর, দেওয়ানহাট, আগ্রাবাদ, সাগরিকা, ঈশান্যাহাটসহ কয়েকটি এলাকার আড়তে এসেছে। এছাড়া ১৫টি উপজেলায়ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়ায় লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে রেখেছেন। ক্রমান্বয়ে এগুলো চট্টগ্রামের একটিসহ ঢাকার ট্যানারিগুলোতে প্রেরণ করা হবে। চট্টগ্রামে ব্যক্তি পর্যায়ে কাঁচা চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করার কোনো সুযোগ নেই।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মোসলেম উদ্দিন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম মহানগরী এবং উপজেলা পর্যায়ে দুই শতাধিক ব্যবসায়ী কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করেছেন। এরমধ্যে মহানগরীতে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯শ’ গরু, ৬ হাজার ৬৫০টি মহিষ এবং ১৭ হাজার ৭শ’ ছাগলের চামড়া মিলে মোট সংগৃহীত হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৫০টি চামড়া। ১৫টি উপজেলা পর্যায়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৯০টি গরু, ৫ হাজার ৩শ’ মহিষ এবং ৩৬ হাজার ১শ’ ছাগল মিলে চামড়া সংগৃহীত হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ১৯০টি। মহানগর এবং জেলায় সর্বমোট ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৪০টি চামড়া সংগৃহীত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যেগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কিন্তু জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর হিসেব করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে, এবার চট্টগ্রাম মহানগরী এবং জেলায় মোট ৭ লাখ ৪০ হাজার ২১২টি পশু কোরবানি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে তাহলে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৭৭২টি চামড়া কোথায় গেছে? অতীতে বিভিন্ন সময় প্রচুর কাঁচা চামড়া প্রতিবেশি দেশে পাচার হতো। এবার এই ধরণের কোনো পরিস্থিতি দেখা যায়নি। তাহলে কোরবানির ৪৪ দশমিক ৪১ শতাংশ চামড়াই প্রক্রিয়ার আওতায় আসেনি।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এবার প্রচুর চামড়া নষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এই বিপুল পরিমাণ চামড়ার বড় অংশ মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, নানা ধরণের সংকট চলছে পুরো সেক্টরে। আগে কাঁচা চামড়া রপ্তানি করার সুযোগ থাকলেও গত কবছর ধরে তা নেই। এছাড়া গরু মহিষের চামড়ার স্থলে কৃত্রিম চামড়া বিশ্ববাজার দখল করায় চাহিদাও আগের চেয়ে কমেছে। তবুও কোটি কোটি টাকা দামের চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং ব্যবহার করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরণের ভূমিকা রাখতো বলে মন্তব্য করে একজন অর্থনীতিবিদ বলেছেন, কোরবানির চামড়া বহু এতিমখানা, মাদ্রাসা এবং গরীব মানুষের আয়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরণের ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। বহু মাদ্রাসা এবং এতিমখানার বার্ষিক খরচের একটি বড় অংশ আসে কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ থেকে। মাটিতে পুঁতে ফেলার কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্যও হুমকি বলে তারা মন্তব্য করেন।












