চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিশুসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নগরীর বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে শিশু রোজাইনা মজিদ (৪) মারা যান। রোজাইনা রাজধানী তেজগাঁওয়ের মনিপুরিপাড়ার বাসিন্দা বলে জানা যায়। মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে রাশেদ বেগম (২৯) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরাত ছিলেন। দুইজনই এক্সপান্ডেন্ট ডেঙ্গু সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল কার্যালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর চট্টগ্রামে মোট ৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এরমধ্যে চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনে মারা গেছেন ৪ জন। একই সময়ে ৬৫৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। এর আগে গত আগস্টে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২০২ জনের এবং মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। এছাড়া গত জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ৫৩৬ জনের এবং মৃত্যু হয় দুইজনের। জুন মাসে আক্রান্ত ১২২ জন, মে মাসে ৩৭ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মার্চে ২০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন ও মৃত্যু ১ জন এবং জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ৬৮ জন। অন্যদিকে গতকাল নতুন করে আরো ৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ২ হাজার ৬৮৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২৯ জন, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ১১ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৬ জন, সিএমএইচ হাসপাতালে ১ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ৭ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৪ জন। অন্যদিকে চলতি বছর মোট আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ১ হাজার ৪০১ পুরুষ, ৭৪৩ জন মহিলা এবং ৫৪৫ জন শিশু রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, আক্রান্তের হার বেশি এবং রোগী শনাক্তও হচ্ছে বেশি। এখনো প্রায় প্রতিদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। জমে থাকা পানিতে এইডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবর পর্যন্ত এই প্রবণতা থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছর ২০২৫ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন এবং মারা যান ২৭ জন। এছাড়া ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা যান ৪৫ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হয়েছিল ১৪ হাজার ৮৭ জন। এরমধ্যে মারা যায় ১০৭ জন এবং ২০২২ সালে মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৪৪৫ জনের মধ্যে মারা যান ৪১ জন।












