বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়নে রাতের খাবার খেয়ে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ ছয়জন অচেতন হয়ে পড়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের পূর্ব চাম্বল নতুনপাড়া এলাকার মো. ইউসূফের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সুযোগে ওই বাড়িতে লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অচেতন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. ইউসূফ (৪৭), তার স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪২), ছেলে মো. মিনহাজ (২৪), এরফান (১৭), মেয়ে জেরিন আক্তার (১৯) এবং ইউসূফের ভাতিজা আব্দুর রহিম (২৮)। বর্তমানে তারা চাম্বলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ইউসূফের বাড়ির পাশে একটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুন নেভানোর জন্য পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বাইরে যান। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সুযোগে কেউ ঘরে প্রবেশ করে রান্না করা খাবারে বিষাক্ত বা চেতনানাশক কোনো দ্রব্য মিশিয়ে দেয়। পরে রাতে ওই খাবার খাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা একে একে অচেতন হয়ে পড়েন।
ইউসূফের ছোট মেয়ে জেনি আক্তার (১০) ওই রাতে খাবার না খাওয়ায় সুস্থ রয়েছে। জেনি জানায়, এক ব্যক্তি তাকে দেশীয় অস্ত্র দা দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। এরপর খাটের ড্রয়ার ভেঙে নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ বাড়ির বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন।
এ ব্যাপারে চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছয়জনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পাই। পরে গতকাল শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
চাম্বলের বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হুমায়ুনুল কবির, খাদ্যে বিষাক্ত কোনো দ্রব্য প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবশিষ্ট খাবারসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।












