আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে খাগড়াছড়িতে বাড়ছে শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। দিনে গরম আর রাতে ঠাণ্ডা। আবহাওয়ার বৈপরীত্যের কারণে সর্দি–কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রতিদিনই এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ শিশু। গত এক মাসে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৪০০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে সাত শিশু।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। ২৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী। ফলে শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। একসঙ্গে এত বেশি রোগী আসায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বজনদেরও বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের বেশিরভাগের মধ্যেই জ্বর, সর্দি–কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
এক শিশুর স্বজন আমেনা আক্তার বলেন, ‘হঠাৎ করে শিশুর জ্বর ও কাশি শুরু হয়। পরে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
হাসপাতালে শিশুর চিকিৎসা করাতে আসা আয়েশা বেগম বলেন, ‘প্রথমে সাধারণ সর্দি–কাশি মনে হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। বাড়িতে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নেওয়া হলেও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে আসতে হয়েছে।’ খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স অনিতা চাকমা বলেন, ‘ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের মধ্যে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তবে এবার রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ছোট শিশু ও নবজাতকদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে ২৫টি শয্যা রয়েছে। এর বিপরীতে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে মেঝেতেও চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। শিশুদের অনেকেই জ্বর, সর্দি–কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসছে। রোগীর চাপ বেশি থাকায় সীমিত জায়গার মধ্যেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হচ্ছে।’
খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, ‘ঋতু পরিবর্তনের সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত রোগ বাড়তে পারে। এ সময় শিশুদের উষ্ণ ও শুষ্ক পরিবেশে রাখার পাশাপাশি ঠাণ্ডা ও ধুলাবালি থেকে দূরে রাখতে হবে। শিশুদের পর্যাপ্ত পানি ও প্রয়োজনীয় খাবার দিতে হবে। কোনো শিশুর শ্বাসকষ্ট, উচ্চ জ্বর, দ্রুত শ্বাস নেওয়া কিংবা নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। গত এক মাসে আমাদের হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাত শিশু মারা গেছে।’












