ইউরোপের আকাশে তীব্র উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা ঘটিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো আয়ারল্যান্ড থেকে বুলগেরিয়া পর্যন্ত ইউরোপীয় এয়ারলাইনসগুলোতে একের পর এক ভুয়া বোমা হামলার হুমকি এসেছে। ফলে অন্তত ২৫টি যাত্রীবাহী ফ্লাইটের বেশ কয়েকটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে কিংবা যুদ্ধবিমান দিয়ে সেগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
যদিও কোনও দেশই এখন পর্যন্ত এসব হুমকির জন্য কাউকে সরাসরি দায়ী করেনি, তবে এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটল, যখন অনেক ইউরোপীয় কর্মকর্তা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ তুলছেন এবং হাইব্রিড হামলা পরিচালনার মূল হোতা বলে অভিযোগ করছেন–যে হামলাগুলো প্রায়ই কম খরচে চালানো হয়, সহজে অস্বীকার করা যায় এবং যেগুলোর প্রতিক্রিয়ায় সশস্ত্র যুদ্ধের আশঙ্কা থাকে না। বৃহস্পতিবারের ফ্লাইট বিপর্যয়ের শিকার হওয়া ডেনমার্ক, পোল্যান্ড এবং রোমানিয়া–এই তিন দেশই এর আগে সরাসরি রাশিয়াকে অভিযুক্ত করেছে। অন্যদিকে, গত আগস্ট মাসে লাইপজিগ বিমানবন্দরে হামলার জন্য জার্মানি রাশিয়াকে দায়ী করেছিল। যুক্তরাজ্য অতীতে রাশিয়াকে দায়ী করলেও, সমপ্রতি একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলার সন্দেহজনক ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানের যোগসূত্র থাকার কথা বলেছে। তবে রাশিয়া ও ইরান উভয় দেশই এসব ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। খবর বিডিনিউজের। উড়োজাহাজ চলাচল নিরাপত্তা সংস্থা ‘দিয়ামি’–এর প্রধান এরিক শাউটেনের মতে, যেসব দেশের এয়ারলাইনস বা বিমানবন্দরে এই বোমার হুমকি এসেছে এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তাদের সবার অবস্থানই ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে। এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করছেন যে, ইউক্রেনকে সমর্থন করার কারণেই হয়ত এই দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভূ–রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিক থেকে দেখলে, আমাদের সবসময় হাইব্রিড যুদ্ধের কথা মাথায় রাখতে হবে। যেমন : আজ আমরা রাশিয়ার ক্ষেত্রে দেখছি। তারা সরাসরি সেনা না পাঠিয়েও আমাদের ওপর চারদিক থেকে আক্রমণ করছে–রেললাইন, সুপারমার্কেট, এমনকি রক্তের ব্যাংক পর্যন্ত। এর মধ্যে বিদ্যুৎ–জ্বালানি খাত, ইন্টারনেট এবং বিমান খাতও রয়েছে।
বুলগেরিয়ার বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো তিনটি যাত্রীবাহী বিমানকে মাঝআকাশ থেকে পাহারা দিয়ে মাটিতে নামিয়ে এনেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোপেনহেগেন এবং মাদ্রিদ থেকে সোফিয়াগামী রায়ানএয়ারের উড়োজাহাজ দুটি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ীই অবতরণ করেছে। তবে লন্ডন থেকে সোফিয়াগামী একটি ফ্লাইটকে দিক পরিবর্তন করিয়ে বুলগেরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর প্লোভডিভে অবতরণ করানো হয়। স্পেনের সিভিল গার্ড জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার পর মাত্র ২০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ ইমেইলের মাধ্যমে তিনটি বোমার হুমকি পায়। এসব হুমকির আওতায় ছিল মাদ্রিদ থেকে প্যারিসগামী এয়ার ইউরোপার দুটি বহির্গামী ফ্লাইট এবং রোম ও মিলান থেকে স্পেনে যাওয়া ইবেরিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি ফ্লাইট। উড়োজাহাজগুলো তল্লাশি করার জন্য বেশ কয়েকটি বিমানকে থামানো হয়েছিল বা পার্কিংয়ের জায়গায় ফেরত পাঠানো হয়েছিল এবং যাত্রীদের উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।












