আর স্কুলে যাবে না অনুশ্রী

হাসপাতাল ভালো লাগছিল না, চেয়েছিল বাসায় যেতে ডেঙ্গুতে নিভে গেল প্রাণ

জাহেদুল কবির | সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

পাহাড়তলীর রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী অনুশ্রী দাশ আর স্কুলে যাবে না। এক সপ্তাহ আগে জ্বর, তারপর হাসপাতালে ভর্তি ও পরিশেষে ডেঙ্গু শনাক্ত। এরপর জ্বরের সাথে যুদ্ধ শেষে আইসিইউ’তে গত শনিবার মারা গেছে ৭ বছরের অনুশ্রী। মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় সুবল চন্দ্র দাশ ও লিপি রানী দাশ দম্পতি। এক সপ্তাহ আগেও যে মেয়ের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকত পুরো ঘর, সেই মেয়ের নিথর দেহ নিয়ে ঘরে ফিরেছেন তারা। মেয়েকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করেছেন দন্ত চিকিৎসকের সহকারী সুবল চন্দ্র দাশ। গতকাল দৈনিক আজাদীকে তিনি বলেন, আমার মেয়ের জ্বর আসে ১২ সেপ্টেম্বর। তারপর ১৪ সেপ্টেম্বর ডাক্তারের চেম্বারের নিয়ে যাই। ওইদিন ডাক্তার ডেঙ্গু পরীক্ষা দেন। একদিন পর ১৫ সেপ্টেম্বর তার ডেঙ্গু পজিটিভ হয়। তবে সেই সময় তার রক্তের প্লাটিলেট ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার। তখন ডাক্তার আমাদের জানান, বাসায় নিয়ে মেয়েকে তরল খাবার খাওয়াতে। কিন্তু মেয়ে খেতে পারছিল না। তাই আমরা তাকে এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে রক্তের প্ল্যাটিলেট নেমে আসে ২৩ হাজার ৫০০ তে। তখন ডায়াবেটিক হাসপাতালের ডাক্তাররা আমাদের জানান, আমার মেয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পিআইসিইউ (বাচ্চাদের আইসিইউ) লাগবে। আইসিইউ’র জন্য আমি নগরীর বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে পরবর্তীতে অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালের আইসিইউ’তে নিয়ে আসি। আমার মেয়েকে আইসিইউ’তে ভর্তি করি শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে। ওই সময় ডাক্তাররা আমাদের বলেন, মেয়ের অবস্থা ভালো না। এরমধ্যে আমি একবার মেয়ের সাথে দেখা করি। মেয়েকে আমার বারবার বলছে, তাকে বাসায় নিয়ে যেতে। হাসপাতালে তার ভালো লাগছে না। তার মাকে দেখার জন্য কান্না করছিল।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুবল চন্দ্র দাশ আরো বলেন, শুক্রবার বিকেলে ডাক্তার আমাকে বলেন, আমার মেয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। তাকে লাইফ সাপোর্টে দেয়া লাগতে পারে। তখন আমি বললাম, তার আগে আমি আমার মেয়েকে একবার একবার দেখবো। মেয়েকে দেখার পর সে বারবার বলছিল, বাবা আমি পানি খাবো। মেয়ের পানি খাওয়ার এই আকুতি আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। তাই আমি ডাক্তারদের অনুরোধ করলাম, আমার মেয়েকে পানি দেয়া যায় কিনা। ডাক্তার বললেনতাকে একবার পানি দেয়ার পর সে বমি করে দিয়েছে। এই অবস্থায় তাকে মুখে পানি দেয়া যাবে না। এরপর থেকে এই আইসিইউতে আমার মেয়ে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যায়। সে বিকেল ৪টার দিকে আমাদের ছেড়ে চলে যায়।

উল্লেখ্য, সুবললিপি দম্পতির দুই সন্তানের এক ছেলেএক মেয়ের মধ্যে অনুশ্রী ছিল সবার ছোট। ছেলে নবম শ্রেণীতে পড়ে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রতিদিন ১০ ভ্যান বর্জ্য ফেলা হয় কর্ণফুলীতে
পরবর্তী নিবন্ধবর্জ্য থেকে কীভাবে বাঁচবে কর্ণফুলী