দীর্ঘদিন আটকে থাকা ১২৬ কন্টেনার মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংসের কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড দখল করে থাকা এসব কন্টেনারের মধ্যে ৩৪ কন্টেনারে ৯৩৫ টন খেজুর, ৪০ কন্টেনারে ১ হাজার ২ টন মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশ রয়েছে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইম স্টোন, মেয়াদোত্তীর্ণ বেনটোনাইট পাউডার, পচা কমলা, নষ্ট পেঁয়াজ, নষ্ট কেশোনাট, ফুড স্টাফ মিলে ৩ হাজার ২২৬ টন পণ্য ধ্বংস করা হবে। প্রথম দিনেই ধ্বংস করা হয়েছে ১০ কন্টেনার পণ্য।
কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, গতকাল সোমবার বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পেছনে বিশাল গর্ত করে এসব পণ্য ধ্বংস করার কার্যক্রম শুরু হয়। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে নিম্নমানের, মেয়াদোত্তীর্ণ, ব্যবহার অনুপযোগী ১২৬ কন্টেনারে থাকা ৩ হাজার ২২৬ টন পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রথম দিন ১০ কন্টেনার পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে।
এর আগে গত ৬ আগস্ট বন্দরের কাস্টমস অকশন শেডে রোলার দিয়ে গুঁড়িয়ে দুই লটে পাঁচ কন্টেনারে থাকা ‘রয়েল টাইগার এনার্জি ড্রিংক’ ও পারসোনাল কেয়ার প্রডাক্ট (শ্যাম্পু) ধ্বংস করা হয়েছিল। খেজুর ও সোডা অ্যাশ ছাড়াও ধ্বংসযোগ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৮ কন্টেনার মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইম স্টোন, ৮ কন্টেনার মেয়াদোত্তীর্ণ বেনটোনাইট পাউডারসহ পচা কমলা, নষ্ট পেঁয়াজ, নষ্ট কেশোনাট, ফুড স্টাফ ইত্যাদি।
সূত্র জানায়, আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তোলা যায়। নিলামে বিক্রি না হলে বা পণ্যের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্যের হুমকি বিবেচনায় এসব পণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ধ্বংসযোগ্য পণ্য বাছাই ও সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি রয়েছে। বন্দরে পড়ে থাকা কন্টেনার যদি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হয় তাহলে মাসের পর মাস বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখতে হয়। অন্যদিকে শিপিং লাইন্সের কন্টেনার আটকা পড়ে বন্দরে। পণ্য ধ্বংসের পর খালি কন্টেনারগুলো শিপিং লাইন্স ফেরত পায় বলেও সূত্র জানিয়েছে।












