বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) আয়ের চেয়ে ব্যয় প্রায় ৩২ গুণ বেশি বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন তথ্য ও সমপ্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। নওগাঁ–৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে গতকাল সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন স্টেশনটি নিয়ে এই তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মে পর্যন্ত ১১ মাসে করসহ বিটিভির মোট আয় হয়েছে ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। একই সময়ে ব্যয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গেল অর্থবছরে (২০২৪–২৫) গণমাধ্যমটির আয় ছিল ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ব্যয় হয় ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা। ফজলে হুদার প্রশ্নটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে বিটিভির আয়ের মধ্যে বিজ্ঞাপন শাখা থেকে রাজস্ব এসেছে ৫ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৪১৭ টাকা। খবর বিডিনিউজের।
তথ্যমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০–২১ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, ব্যয় ছিল ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২১–২২ অর্থবছরে আয় ছিল ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ব্যয় ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ২০২২–২৩ অর্থবছরে আয় ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ব্যয় ছিল ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে আয় ছিল ৪৪ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা, ব্যয় হয় ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রাষ্ট্রীয় সমপ্রচারমাধ্যমটির ধারাবাহিক আয়–ব্যয়ের এই ব্যবধান নিয়ে সংসদে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
‘অপতথ্য’ ছড়ানো ৩০০ ফেসবুক আইডি চিহ্নিত :
জামালপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অপপ্রচার, কুৎসা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় ‘বাংলাফ্যাক্ট’ কার্যক্রম চলছে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ ৭৮৩টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ভিডিও বা রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ২২৯টি প্রকাশিত হয়েছে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর। মন্ত্রীর ভাষ্য, সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণে ‘প্রোপাগান্ডা ও অপতথ্য প্রকাশ করে’, এমন ১৬টি ওয়েবসাইট চিহ্নিত করেছে ‘বাংলাফ্যাক্ট’। তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ায়, এমন ৩০০টির বেশি ফেইসবুক আইডি এবং ১৯৯টি ‘এঙ’ আইডি চিহ্নিত করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে আইন সংশোধনের উদ্যোগ :
জামালপুর–৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভুঁইফোঁড় সাংবাদিকতা রোধে প্রকৃত সাংবাদিকদের যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, নিবন্ধন ও ডাটাবেইজ প্রণয়নের সুনির্দিষ্ট বিধান যুক্ত করে প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৭৪ সংশোধনের কার্যক্রম চলছে। প্রেস কাউন্সিল থেকে প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের অনলাইন ডাটাবেইজ তৈরির জন্য ৩২ জেলা থেকে পাওয়া সাংবাদিকদের তথ্য হালনাগাদ করার কার্যক্রমও চলছে বলে জানান তিনি।
বেসরকারি টিভি ৫৫টি, সমপ্রচারে ৩৯টি :
ঢাকা–১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশনের সংখ্যা ৫৫টি। এর মধ্যে ৩৯টি সমপ্রচারে রয়েছে। তিনি বলেন, দেশে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১ হাজার ৪৩৬টি। এর মধ্যে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় ৫৯৩টি এবং ঢাকার বাইরে থেকে ৮৪৩টি। তথ্যমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ৪৭৪টি। এর মধ্যে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ২৮২টি, দৈনিক পত্রিকার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ১৩১টি এবং আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ৬১টি। চট্টগ্রাম–৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৫ বছরে ৪০টি বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ছয়টি।











