১০ দিনে গ্রেপ্তার ১০০

কক্সবাজারে সাঁড়াশি অভিযান

কক্সবাজার প্রতিনিধি | শনিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আর পর্যটন মৌসুমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কক্সবাজারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে শহর দাপিয়ে বেড়ানো সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, চোর ও মাদকসেবীসহ অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। এর অংশ হিসেবে ১০ দিনে অন্তত ১০০ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযান জোরদার থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।

পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য মতে, কক্সবাজার শহরের পর্যটন ও বাণিজ্য এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অন্তত তিন শতাধিক অপরাধী। এর মধ্যে ছিনতাইকারী ও চোরের আধিক্য বেশি। এছাড়া মাদকসেবিসহ অন্যান্য অপরাধী রয়েছে।

শহরবাসীর অভিযোগ, শহর ও আশেপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। শহরের পর্যটন জোন এবং বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় ছিনতাইকারী ও চোরসহ অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে অনেক বেড়েছে। এসব অপরাধীরা প্রতিনিয়ত ছিনতাইচুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে।

অন্যদিকে শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরাও বেপরোয়া হয়ে নানা অপরাধ ঘটাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত ২৮ আগস্ট শহরের ঝাউতলাস্থ হোটেল রেনেসাঁর বারে ঘটে এক ভয়ংকর ঘটনা। এতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী রিদির নেতৃত্বে হামলা ও ছুরিকাঘাতে মো. রাশেদ নামের এক যুবককে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে সালমান নামের হামলাকারীদের একজন নিহত হন। এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ শহরবাসী ও পর্যটকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, পর্যটন মৌসুম এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শহরকে অপরাধমুক্ত করতে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন রাতদিন পুলিশের কয়েকটি দল পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ওসি জানান, ৩০ আগস্ট থেকে টানা অভিযান চলছে। অভিযানে ১০ দিনে ১০০ জন বিভিন্ন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সর্বাধিক ২৩ জন জন গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ছিনতাইকারীর সংখ্যা। এরপরে রয়েছে চোর ও মাদকসেবী।

এ ব্যাপারে শহর কমিউনিটি পুলিশের উপদেষ্টা সাংবাদিক নেতা নূরুল ইসলাম হেলালী বলেন, শহরে অপরাধীরা নানা উপলক্ষে মাথাছাড়া দিয়ে উঠে। লাগাম না টানলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। সস্প্রতি এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান জোরদার করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার অব্যাহত রেখেছে। এতে শহরবাসীর মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে।

হোটেলমোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পর্যটন এলাকায় বড় সমস্যা পর্যটকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি। ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে পর্যটকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। আগামী মাস থেকে পর্যটন মৌসুম শুরু হচ্ছে। এর আগে তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলে ভালো হয়। তবে যেন দ্রুত জামিন না পায়; সে দিকে জোরদার দেয়া দরকার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখাগড়াছড়িতে আগুনে ওষুধের গোডাউনসহ পাঁচ দোকান পুড়ে ছাই