কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ২৬ নম্বর শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পেছনে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বন্যহাতিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোরে সুউচ্চ পাকা সীমানা দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা।
জানা গেছে, নির্মাণাধীন দেয়ালটির উচ্চতা ৫ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ১৩৭ মিটার। জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির অর্থায়নে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এ অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেন, দেয়াল নির্মাণের ফলে বন্যহাতি, বানর, শিয়াল, সরীসৃপ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে এটি হাতির চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হওয়ায় মানুষ–হাতি সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী মোহাম্মদ তৈয়ব উল্লাহ বলেন, শালবাগান বন উখিয়া–টেকনাফ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল। দীর্ঘদিন ধরে এটি বন্যহাতিসহ নানা প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল ও চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু বনের ভেতরে পাকা দেয়াল নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেয়ালের কারণে হাতির চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে লোকালয়ে প্রবেশের ঝুঁকি বাড়বে। একই সঙ্গে বনভূমির গাছপালা ও প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ধ্বংস হওয়ায় ছোট–বড় বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থলও হুমকির মুখে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, রোহিঙ্গাদের আগমনের পর পাহাড়, বনভূমি ও বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্যসহ বহু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শালবাগান ক্যাম্পসংলগ্ন বনভূমির মধ্যে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে সীমানা দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে এ কাজের জন্য বন বিভাগ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, কাজ বন্ধ রাখার জন্য শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়কে অনুরোধ করা হলেও নির্মাণকাজ এখনো চলছে। এ ধরনের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ বনাঞ্চলের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর চলাচলের জন্য বড় হুমকি।
এ বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়। সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে বনের ভেতরে দেয়াল নির্মাণ আদর্শ সমাধান নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।












