সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে হবে : আজাদী সম্পাদক

এর্শাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পরিষদের মিলনমেলা

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

আনোয়ারার ঐতিহ্যবাহী তৈলারদ্বীপ বারখাইন এর্শাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পরিষদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৯৫৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নৈতিক অবক্ষয় যখন সমাজকে নানা দিক থেকে প্রভাবিত করছে, তখন সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে এ ধরনের পুনর্মিলনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন পর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একত্রিত হওয়ার এ আয়োজন পারস্পরিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করবে। এম এ মালেক বিশেষ করে ছাত্রীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লায়ন্স জেলা ৩১৫বি৪ বাংলাদেশের সাবেক গভর্নর লায়ন কামরুন মালেক বিদ্যালয়ের মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ প্রোগ্রামে ২ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, গ্রামের শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যাতে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, সেদিকে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে লায়ন কামরুন মালেক বলেন, জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে পুরনো বন্ধুবান্ধব ও সহপাঠীদের একসঙ্গে দেখে আবার সেই পুরনো দিনের স্মৃতিতে ফিরে গেছি বলে মনে হচ্ছে। স্কুলজীবনের সেই মধুর স্মৃতিগুলো জীবনের অমূল্য সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময় চলে যায়, মানুষও জীবনের নানা পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব ও স্মৃতি হৃদয়ে থেকে যায়।

দিনব্যাপী আয়োজনে বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষকদের সম্মাননা, কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা, বিভিন্ন ব্যাচের পক্ষ থেকে আলোচনা, স্মৃতিচারণ এবং সাংস্কৃতিকসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক, খেলাধুলা, বন্ধুত্ব এবং স্কুলজীবনের নানা আনন্দবেদনার স্মৃতি।

প্রাক্তন ছাত্র মোহাম্মদ ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আয়োজকদের মধ্যে প্রাক্তন ছাত্র মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ, মো. ফারুক, মো. জালাল হোসেন, মো. আনোয়ার, সৈয়দ মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন খোকন, মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও মাহাবুব ইবনে কামরুল উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ছাত্র এস এম মফিজ উল্লাহ, নাজিম উদ্দীন মুন্সি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের মাহমুদ, ডা. উজ্জ্বল, সার্জেন্ট (অব.) জসিম উদ্দীন রাজা মিয়া, মাস্টার শাহ আলম, মোজাফ্‌ফর আহমদ চৌধুরী, বাপ্পি দাশ, মো. জসিম, জগন্নাথ, মাহবুবুল আলম, মো. কায়সার, মো. রফিক, মো. মাসুদ, মো. ফারুক, তৌহিদুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার জামাল, মো. সাবের, তারেক মাসুদ ও মো. মনিরসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

পুনর্মিলনীতে অংশ নেওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নেওয়া, বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিশেষ করে মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দিনব্যাপী এ আয়োজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে বন্ধনের সৃষ্টি করেছে বলে জানান আয়োজকরা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএবার নতুন অতিথি আফ্রিকার রিংটেইল লেমুর
পরবর্তী নিবন্ধ২০ বছরের জমে থাকা ময়লা অবশেষে পরিষ্কার, স্বস্তি