সন্দ্বীপের কুমিরা–গুপ্তছড়া নৌরুটে সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকরের পর প্রায় দেড় দিন বন্ধ ছিল স্পিডবোট চলাচল। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে বোট মালিকদের বৈঠকের পর দুপুর দুইটা থেকে এ রুটে আবারও শুরু হয়েছে স্পিডবোট চলাচল।
গত সোমবার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ–পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কুমিরা–গুপ্তছড়া নৌরুটে স্পিডবোটের জনপ্রতি ভাড়া ২৬০ টাকা নির্ধারণ করে। এ ভাড়ায় খরচ না পোষানোর অযুহাতে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে এ রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেয় বোট মালিকরা। এতে দুই ঘাটে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রচন্ড রোদের মধ্যে যাত্রীদের সার্ভিস বোট ও মালবাহী বোটে করে নৌপথ পাড়ি দিতে হয়। এ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় সন্দ্বীপের নেটিজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তারা দ্রুত সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভাড়া না নিলে কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেয়।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সব পক্ষের বক্তব্য শুনে স্পষ্টভাবে জানান, সরকার নির্ধারিত ২৬০ টাকা ভাড়ায় স্পিডবোট পরিচালনা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুপ্তছড়া–কুমিরা নৌরুট থেকে স্পিডবোট সরিয়ে নিতে হবে। পরে বোট মালিকরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় স্পিডবোট চালাতে সম্মত হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুপ্তছড়া ঘাটে গিয়ে সবার উপস্থিতিতে দুপুর ২টার দিকে পুনরায় স্পিডবোট চলাচলের কার্যক্রম শুরু করেন।
বৈঠকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু তাহের, সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ঠাকুর, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফিরোজ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা মীর মোহাম্মদ ইসমাইল, হেফাজত নেতৃবৃন্দ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হানিফ, সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন, বিআইডব্লিউটিএ প্রতিনিধি, স্পিডবোট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।













