তথ্যই শক্তি, তথ্যই ভিত্তি কিন্তু সেই শক্তির অপব্যবহার যখন ব্যক্তিস্বার্থ, অর্থলাভ বা ভিউ বাড়ানোর হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায় তখন তা হয়ে ওঠে ‘মিডিয়া সন্ত্রাস’। আধুনিক সমাজব্যবস্থায় এই প্রবণতা এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে সাধারণ মানুষের পক্ষে সত্য–মিথ্যা পরখ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহের এই যুগে আমরা কি আসলে স্বাধীন নাকি মিডিয়ার সূক্ষ্ম কারসাজির কাছে জিম্মি সেই প্রশ্ন এখন সময়ের দাবি।
মিডিয়া সন্ত্রাসের অন্যতম অন্ধকার দিক হলো ব্ল্যাকমেইলিং বা চাঁদাবাজি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নেতিবাচক খবর প্রচার করা হয়। এর মূল লক্ষ্য থাকে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া এবং পর্দার আড়ালে অনৈতিক সুবিধা আদায় করা। তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে এভাবে একপাক্ষিক বিচার বা ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানোর ফলে নিরপরাধ মানুষের সম্মান ধূলিসাৎ হচ্ছে যা কোনোভাবেই সুস্থ সাংবাদিকতার লক্ষণ নয়।
মিডিয়াকে সমাজের ‘দর্পণ’ বলা হলেও বর্তমানে সেই দর্পণে অনেক সময় ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়। তাই সময় এসেছে চোখ বন্ধ করে যেকোনো খবর বিশ্বাস না করার। কোনো চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এলে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিত। যেমন: সংবাদটি কোন সূত্র থেকে এসেছে এবং তা নির্ভরযোগ্য কি না। খবরের পেছনের উদ্দেশ্য কী জনস্বার্থ নাকি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা। একটি নির্দিষ্ট মিডিয়ার ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ মাধ্যমের তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখা।
যদি এই অপতৎপরতা এখনই বন্ধ না হয় তবে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ মিডিয়া সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। মিডিয়াকর্মীদের যেমন পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে তেমনি পাঠকদেরও হতে হবে সচেতন এবং বিচারবোধসম্পন্ন।












