রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। আলোচনা তৈরি করা এ শিশু হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধান আসামি সোহেল ও তার স্ত্রীকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে এ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। খবর বিডিনিউজের।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে সংঘটিত প্রতিটি জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ঘটনায় আসামিদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে তালিকাভুক্ত করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু হত্যা মামলা। এ মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে আরও একজন আসামিকে শনাক্ত করা গেছে। এছাড়া কুমিল্লায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বগুড়ায় তরুণী ধর্ষণ, কাপাসিয়ায় পাঁচ খুন এবং ঢাকার মান্ডায় প্রবাসী হত্যাকাণ্ডের মতো প্রতিটি ঘটনায় জড়িত সকল আসামিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইন সংস্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সকল আইনকে যুগোপযোগী করা হবে। তবে কোনো সাময়িক ক্ষোভ মেটাতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে চটজলদি আইন প্রণয়ন বা বিশেষ আদালত গঠন করা সমীচীন নয়। তিনি বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন কোনো অবিচার না হয় বা কঠোর আইনের অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
নতুন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল সৃষ্টির চেয়ে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানো আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে বেশি যৌক্তিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার আলোচিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) কার্যকরের যে ঘোষণা দিয়েছে, তা দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত বুধবার সিএএ এর বাইরে থাকা ব্যক্তিদের অবৈধ বাংলাদেশি ধরে নিয়ে তাদের ফেরত পাঠাতে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে বিষয়েও মুখ খুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, যেন অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশ–ইন) না ঘটে।
সালাহউদ্দিন বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতের সিএএ বা আসামের এনআরসি তাদের নাগরিকদের জন্য নিজস্ব আইন–কানুন। সেখানে আমাদের কোনো বক্তব্য থাকার অবকাশ নেই। তবে বাংলাদেশের সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, যেন কোনো পুশ–ইন (অবৈধ অনুপ্রবেশ) না ঘটে।
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার গুঞ্জন নিয়ে তিনি বলেন, আমরাতো তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরত চাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং বিদ্যমান প্রত্যর্পন চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তিনি বাংলাদেশে মামলার মুখোমুখি হন।












