গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সৈনিক, সাবেক মন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সুপ্রিম কোর্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটের দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গতকাল রোববার এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, এই বরেণ্য রাজনীতিবিদের প্রয়াণ দেশের রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার বিকাশে তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
এছাড়া ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারাল। খবর বিডি/বাংলানিউজ/বাসসের।
তারেক রহমান তার শোকবার্তায় বলেন, তার আদর্শ, প্রজ্ঞা, সততা ও কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেনে, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব।
এদিকে গতকাল আসরের নামাজের পর জাতীয় সংসদ ভবনে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দক্ষিণ প্লাজার পরিবর্তে জানাজা হয় জাতীয় সংসদের মূল ভবনের প্রবেশ টানেলে। পরে সংসদ ভবন চত্বরে নির্ধারিত স্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সামরিক সচিব এএসএম বাহাউদ্দিন, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপ, এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পক্ষে সিনিয়র সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ কর্মকর্তারা মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জানাজার শুরুতে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এরপর স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য এবং সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। তার মৃত্যুতে আজ সোমবার সারাদেশে শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জমির উদ্দিন সরকারের সহধর্মিণী নূর আখতার ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্রসন্তান রেখে গেছেন। তাঁর পুত্র ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জমির উদ্দিন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার–অ্যাট–ল’ ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।












