শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্র গঠনে ইতিহাসে এক অনন্য নাম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যা এগিয়ে নিয়েছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছেন।
তিনি শুক্রবার সকালে নগরের কাজীর দেউড়ি সংলগ্ন জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন। এদিন তিনি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও স্বাধীনতা কমপ্লেঙও পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, চট্টগ্রাম–৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
আহমেদ আযম খান বলেন, মেজর জিয়া থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি জিয়া– ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে তার যে অবস্থান, সেটা বাংলাদেশকে অনেক বেশি আলোড়িত করেছে, সমৃদ্ধ করেছে। সেই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে এই স্মৃতি জাদুঘর। এটা আমরা দেখলাম। পরিপূর্ণভাবে দেখতে পারিনি।
তিনি বলেন, আমরা এটা দেখলাম। এসে শুনলাম, এর অনেকগুলো রুম আমরা দেখেছি খালি। কারণ এটা রেনোভেশন হচ্ছে। এটাকে সুন্দর করে রেনোভেট করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত জিনিসগুলোকে সংরক্ষণ করা হবে।
আহমেদ আযম খান বলেন, আমরা এরপরে যাব জিয়া স্মৃতি কমপ্লেঙে, যেটা ফ্যাসিবাদের সময়ে স্বাধীনতা কমপ্লেঙ করা হয়েছিল। সম্পূর্ণভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি ঈর্ষা করে। এবং এটা একটা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির ছোবল। আমরা ইনশাল্লাহ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেঙ নতুন করে করব। আরো কিছু স্থাপনা পরিদর্শন করব।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদেশের স্বাধীনতায় মহান মুক্তিযুদ্ধে যে মহান ঘোষণাটি দিয়েছিলেন, সেই ঘোষণার পর একটার পর একটা উনার যে পদক্ষেপ ছিল– উনি যুদ্ধ করেছেন, উনি বীর উত্তম হয়েছেন, উনি সেনা প্রধান হয়েছেন, উনি সফল রাষ্ট্রনায়ক হয়েছেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্যে উনি বাংলাদেশের চিত্রটাকেই এক সময় পাল্টে ফেলেছিলেন, যা ফ্যাসিবাদ বারবার পরবর্তীতে ভ–ূলুণ্ঠিত করেছে। সেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি এবং তার স্মৃতিগুলোকে সংরক্ষণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সবকিছু করবে।
তিনি বলেন, সামপ্রতিক সময়ে এসব স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা দেশের জাতীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। সরকার এসব স্থাপনা পুনর্গঠন করে জনগণের জন্য আবার উন্মুক্ত করবে।
দেশের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সামান্য মূল্য সমন্বয়কে কেন্দ্র করে দেশে যে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে, তা অযৌক্তিক। সকলকে দেশপ্রেমিক হতে হবে, কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি বা গণতন্ত্রহীনতার দিকে আমরা যেতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছি।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, জিয়া স্মৃতি জাদঘুর এবং জিয়া স্মৃতি কমপ্লেঙ যেটি পরবর্তীতে স্বাধীনতা কমপ্লেঙ করা হয়েছিল, এগুলো ঐতিহাসিক নিদর্শন। আগামী প্রজন্মকে এগুলো জানতে হবে। তাদের আসতে হবে। দেখতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের ইতিহাস যদি আমরা না জানি, তাহলে জাতি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারব না। আমরা দ্রুততম সময়ে এখানে ভূমিকম্পের কারণে যে ড্যামেজ হয়েছে সেগুলোকে মেরামত করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেব।












