সিলেটে বাংলাদেশ–পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই সেঞ্চুরি করেছেন লিটন দাস। দলকে একাই টেনে সম্মানজনক এক ইনিংস গড়ে দেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার। তার উইকেট নেওয়ার সুযোগ একাধিকবার পেয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারার খেসারত দিয়েছে তারা। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেঞ্চুরি করেছেন লিটন। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে পাকিস্তানি পেসার খুররম শাহজাদ সেই আক্ষেপের কথা লুকাননি। লিটন যখন ৫২ রানে ব্যাটিং করছিলেন, তখন তাকে আউটের একটি বড় সুযোগ মিস করে পাকিস্তান। পাকিস্তানি পেসার খুররমের একটি বাউন্সার লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে চলে যায়। পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা জোরালো আবেদন করলেও আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। তবে পাকিস্তান দল রিভিউ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তারা বিস্ময়করভাবে রিভিউ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা যায়, বলটি লিটনের গ্লাভস স্পর্শ করেছিল।
পাকিস্তান রিভিউটা নিলে বাংলাদেশি ব্যাটার তখনই আউট হয়ে যেতেন। এই ‘জীবন’ পাওয়ার পূর্ণ সুযোগ নেন লিটন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাংলাদেশ দলকে টেনে তুলে তিনি ১৩৫ বলে দুর্দান্ত একটি সেঞ্চুরি তুলে নেন এবং শেষ পর্যন্ত ১২৬ রান করে আউট হন। তার এই লড়াকু ইনিংসের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। তারও আগে ৩৩ রানে সাজিদ খানের ফিরতি বলে তার হাত ফসকে জীবন পান লিটন। খুররম বলেন, ‘আমরা দ্রুত কিছু উইকেট পেলেও কিছু রিভিউ মিস করেছি। লিটন দাস আউট ছিল, রিভিউ নিতে মিস করে ফেলি। তাকে আউট করলে অনেক আগেই তারা অলআউট হয়ে যেত। তবে এটা খেলারই অংশ।’ লিটনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান আক্রমণাত্মক ছিল বললেন এই পেসার, ‘আমরা লিটনকে আউট করার সুযোগ তৈরি করেছিলাম, আমার বলেই দুইবার। আমরা ওকে আক্রমণাত্মক বোলিংই করেছি। এই ধরনের বোলিংয়ে রান যেমন আসে, আউটের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। ফিল্ডিং তো পরিস্থিতি অনুযায়ী সাজানো হয়।’
লিটনকে ভাগ্যবান দাবি করে খুররম জানান, এই পিচে চারশর বেশি রান করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আজ ও (লিটন) অনেক ভাগ্যবান ছিল। ২৬ রানেই (হবে ৩৩ রান) আউট হতে পারতো। তারপরও ৩০০–র ভেতরে ওদের আটকে দিয়েছি। পিচ ঢাকার চেয়ে ভিন্ন। এটা ভালো ব্যাটিং পিচ। ওখানে বোলিংয়ে সহায়তা পাওয়া যাচ্ছিল। আবার অসমান বাউন্স ছিল, ফাঁটল ছিল। আশা করি এখানে আমরা ৪০০–৪৫০ করতে পারব।’













