রেকর্ডময় ইনিংসে তামিমকে ছাড়িয়ে ৩৫০ রানে ইনিংস ছাড়লেন হৃদয়

| বৃহস্পতিবার , ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ

টেপো এনটুলির বল মিড উইকেটে ঠেলে সিঙ্গল নিয়ে তাওহিদ হৃদয় পূর্ণ করলেন ৩৫০ রান। এবার আর কোনো উদযাপন নয়, বরং আম্পায়ারে দিকে ‘থামস আপ’ দেখালেন। সঙ্কেত দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, ম্যারাথন ব্যাটিংয়ের এখানেই সমাপ্তি। ইনিংস ঘোষণা করলেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়া ইনিংসটিতে শেষ পর্যন্ত আউট হলেন না হৃদয়। অপরাজিত রয়ে গেলেন ৪৮১ বলে ৩৫০ রানে। মাঠের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিপক্ষ ফিল্ডাররা এসে অভিনন্দন জানালেন তাকে, পিঠ চাপড়ে দিলেন, হাত মেলালেন হাতে। মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সতীর্থদের সবাই ড্রেসিং রুমের সামনে এসে বরণ করে নিলেন তাকে। খবর বিডিনিউজের।

পচেফস্ট্রুমের এই মাঠেই ২০২০ যুব বিশ্বকাপজয়ী দলে ছিলেন হৃদয়। সেখানেই এবার রচিত হলো তার ক্যারিয়ারের আরেকটি গৌরবময় অধ্যায়। অধিনায়কের কীর্তিময় ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টে ৮ উইকেটে ৬৭৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। হৃদয়ের ৩৫০ রানের ইনিংসে চার ২৭টি, ছক্কা ১০টি। এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাড়ে তিনশ ছুঁতে পারলেন। পেছনে পড়ে গেল তামিম ইকবালের ৩৩৪ রান। দেশের বাইরে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের ২২০ রানও ছিল না আগে। ২০৪ রান নিয়ে ম্যাচের শেষ দিনটি শুরু করা হৃদয় একের পর এক রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন সকাল থেকেই। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার আগের সেরা ২১৭ ছাড়িয়ে গেছেন। পরে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন শাহরিয়ার হোসেনকে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের দেশের বাইরে সর্বোচ্চ ছিল সাবেক এই ওপেনারের। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং অথোরিটির বিপক্ষে ২১৮ রান করেছিলেন তিনি। অপর প্রান্তে নাঈম হাসান ও হাসান মুরাদ বিদায় নেন অল্প রানে।

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অষ্টম উইকেট পতনের সময় হৃদয়ের রান ২২৫। কিন্তু দশে নামা রেজাউর রহমান রাজা দারুণ ব্যাটিংয়ে ভরসা জোগান সঙ্গীকে। ব্যস, রেকর্ডের পথচলা চলতে থাকে। ২৫০ পূর্ণ করেন তিনি ৩৮১ বলে। লাঞ্চে যান ২৭৪ রান নিয়ে। জুটি ভাঙতে তৃতীয় নতুন বল নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে লাভ হয়নি তাতেও। ৪৫০ বল খেলে হৃদয় পৌঁছে যান তিনশতে। সেখানেই না থেমে বরং ছুটতে থাকেন তিনি আরও গতিময়তায়। চা বিরতিতে যান ৩৩৩ রান নিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক মার্কের আকারম্যান তার কাছে গিয়ে জানতে চাইলেন, ইনিংস ঘোষণা করা হবে কিনা। কিন্তু হৃদয় জানিয়ে দিলেন, ব্যাটিং চালিয়ে যাবেন বিরতির পরও।

সেটির কারণ বোঝা গেল বিরতির একটু পরই। ৩৫০ ছোঁয়ার জন্যই ছিল অপেক্ষা। তিনশ থেকে সাড়ে তিনশতে যান তিনি স্রেফ ৩১ বলেই। এই পরিক্রমায় পেছনে ফেলেন তিনি রকিবুল হাসানের ৩১৩ আর তামিমের ৩৩৪ রানকে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি ছিল এতদিন এই দুজনেরই। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ট্রিপল সেঞ্চুরি ছিল এতদিন শুধু ডেনিস কম্পটনের। সেই ১৯৪৮ সালে এমসিসির হয়ে ৩০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ইংলিশ গ্রেট। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ইনিংস ঘোষণার সময় হৃদয়ের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে রেজাউরের অবিচ্ছিন্ন জুটির রান ছিল ১৫৭। চারটি চার ও দুই ছক্কায় ১১০ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন রেজাউর।

১৬৪ রানে এগিয়ে থেকে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল দ্বিতীয় ইনিংসে ১২ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৮ রান তোলার পর ড্র মেনে নেয় দুই দল।প্রিটোরিয়ায় প্রথম আনঅফিসয়াল টেস্টে ইনিংস ও ৪১৩ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সেখান থেকে এই ম্যাচকে বলা হয় অভাবনীয় পরিবর্তন।

ম্যান অব দা ম্যাচ অনুমিতভাবেই হৃদয়। আগের ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি ও এই ম্যাচে সেঞ্চুরি করে ম্যান অব দা সিরিজ সিনেথেম্বা কেশিলে। দুই দল এখন খেলতে একদিনের ম্যাচের সিরিজ। রোববার ব্লুমফন্টেইনে শুরু তিন ম্যাচের সিরিজটিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন এই হৃদয়ই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএশিয়ান গেমসে পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশ, দলে চমক শান্ত
পরবর্তী নিবন্ধমিকার মৃত্যুর আগের ঘটনা তুলে ধরল যে সিরিজ