রমজানের (৫৫) স্বপ্ন ছিল দীর্ঘকাল পর দেশে ফেরার। বোন মিলি আক্তারকে জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি গ্রামে ফিরবেন। কিন্তু তার আগেই পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে তাকে।
রমজান সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া গ্রামের আবুল খায়ের এর ছেলে। বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে তার এক ভাই ও দুই বোন রয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি বাড়িতে আসার কথা জানিয়েছিলেন বোন মিলি আক্তারকে। মিলি জানান, তার ভাই রমজান আলী দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি একটি টেক্সটাইল মিলে কাজ করেন। দেশের কারো সাথে তেমন যোগাযোগ ছিল না তার। তবে মাঝে মাঝে মা–বাবার সাথে ফোনে কথা বলতেন। মা–বাবা মারা যাওয়ার পর গত ৭–৮ বছর যাবত কারো সাথে আর কথা হয়নি তার। কিন্তু সম্প্রতি তিনি দেশে আসার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। দেশে ফিরতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদন করেছিলেন। দূতাবাস তার সঠিক ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য সীতাকুণ্ড মডেল থানায় প্রেরণ করে। ডিএসবি গোয়েন্দা বিভাগ গ্রামের বাড়িতে তথ্য যাচাই করে রিপোর্টও দিয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, দেশে আসার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল তার। গত রোববার রাতে পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিতে তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
মিলি আক্তার জানান, ভাই কিছুদিন ধরে দেশে আসার জন্য এক প্রকার পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। এক সপ্তাহের মধ্যে তার বাড়ি আসার কথা। বাড়িতে এসে বিয়ে করে সংসার করারও ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন তিনি। দেশে বিয়ে করবেন বলে তিনি পাকিস্তানে বিয়েও করেননি। সে হিসেবে স্বজনরা তার জন্য পাত্রীও একরকম খুঁজতেও শুরু করে দিয়েছিলেন। রমজানের ভাই–বোনদের ইচ্ছে, তার মা বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করার। সে হিসেবে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।











