কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে সব ধরনের নির্মাণকাজ আট সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। একই সঙ্গে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও প্রকল্প পরিচালকসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদনটির শুনানি আট সপ্তাহের জন্য মূলতবি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার হাই কোর্ট বেঞ্চ পৃথক দুটি আবেদনের শুনানি শেষে রুলসহ এ আদেশ দেয়। খবর বিডিনিউজের।
আদালতের আগের রায় অমান্য করে বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণের খবর গণমাধ্যমে এলে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) আদালত অবমাননার আবেদনটি করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলা) প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করে। বালিয়াড়িতে আইনবহির্ভূত ও অনুমোদনহীন নির্মাণকাজ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং সৈকতকে কেন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চেয়েছে আদালত।
আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এলাকাটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার (ইসিএ) অন্তর্ভুক্ত। আইন অনুযায়ী, সৈকতের ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো নির্মাণকাজ নিষিদ্ধ এবং যে কোনো কাজের আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন। কিন্তু কক্সবাজার পৌরসভা কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই শুধু ল্যান্ড ইউজ পারমিশন নিয়ে অবৈধভাবে এই রাস্তা নির্মাণ করছে।
এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০১০ সালে সমুদ্রসৈকত রক্ষায় আমরা রিট আবেদন করেছিলাম। ২০১১ সালে হাই কোর্ট সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা এবং বালিয়াড়ির সব স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। দুইবার সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত হলেও এখন পৌরসভা বালিয়াড়ি ধ্বংস করে রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে, যা স্পষ্টভাবে আদালত অবমাননা। তিনি জানান, প্রজেক্ট কন্ট্রাক্টর, কক্সবাজার পৌরসভা ও এলজিইডিকে এই আট সপ্তাহ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট আদালত অবমাননার আবেদনের ওপর শুনানি হয়। এরপর ১ সেপ্টেম্বর রিট মামলা ও অবমাননার আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি শেষে বুধবার রুলসহ এই আদেশ দিল আদালত। আদেশের পর বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, এটি জাইকা সমর্থিত একটি প্রকল্প। তারা একটি ‘থোক’ ছাড়পত্র নিয়েছে যেখানে রাস্তাটি কোথায় হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা নেই। ফলে পরিবেশ অধিদপ্তরও আপত্তি জানিয়েছে। তিনি বলেন, বালিয়াড়ি বুলডোজার দিয়ে সমান করা হচ্ছে। এর আগে মহেশখালীতে সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে জাইকা সমর্থিত এমন একটি রাস্তা নির্মাণের কাজও হাই কোর্ট স্থগিত করেছিলেন। আজ আদালত সৈকত এলাকাটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও রুল দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। সরকারপক্ষের যুক্তি ছিল, জনগণের চলাচলের স্বার্থে এবং কক্সবাজারের উন্নয়নে সরকারের অনুমতি নিয়েই রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেল এ পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন কোনো আদেশ না দেওয়ার আরজি জানিয়েছিলেন।
এর আগে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ শুরু করায় গত ২৭ আগস্ট জেলা প্রশাসক ও প্রকল্প পরিচালকসহ চারজনকে আদালত অবমাননার নোটিস পাঠিয়েছিল এইচআরপিবি। ওই নোটিসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্মাণকাজ বন্ধ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।












