রাঙ্গুনিয়ায় ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি, ব্লক বসানোর দাবি

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | রবিবার , ৯ আগস্ট, ২০২৬ at ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

প্রবল বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব কোদালা এলাকায় কর্ণফুলী নদী ও কোদালা খালের তীরে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। অব্যাহত ভাঙনে চোখের সামনে ভিটেমাটি বিলীন হতে দেখে চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ব্লক বসিয়ে তীর সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সরেজমিনে কোদালা ইউনিয়নের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কোদালা রায়খালী এলাকা ঘুরে দেখা যায় ভাঙনের তাণ্ডব। এখানকার বড়ুয়াপাড়া, তালুকদার পাড়া, পশ্চিম পাড়া, এবং মান্না বাপের গোট্টা থেকে কোদালা ব্রিজ পর্যন্ত এলাকাগুলোতে খালের তীব্র স্রোতে ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ভাঙনকবলিত নদীতীরে বিষণ্ন মনে বসে থাকতে দেখা যায় ৭০ বছর বয়সী জেবর মুল্লুককে। বাপদাদার স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটি আগেই হারিয়েছেন, এবার শেষ বয়সে নিজের হাতে গড়া বসতভিটাও হারানোর উপক্রম। ইতিমধ্যেই তার বসতঘরের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শুধু জেবর মুল্লুক ননআজিজুল হক, ইউসুফ, হালিমা বেগম, খঞ্জনী বেগম, আনাতুন নূর বেগম, আমাতু বেগম ও কামরুন নাহারসহ অনেকেই এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড়ের ঝুকিপূর্ণ বসতঘরে দিন কাটাচ্ছেন। আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি না বদলালে চলতি বর্ষাতেই প্রায় ১০০ থেকে ১২০টি পরিবারের ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হবে বলে আশংকা স্থানীয়দের। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানও। কর্ণফুলী নদীর কোদালা বাজার এলাকা থেকে কোদালা খালের প্রবেশপথেও তীব্র ভাঙন দেখা গেছে। এতে ঐতিহ্যবাহী কোদালা উচ্চ বিদ্যালয়, কোদালা বাজার, কোদালা ঘাট, কোদালা ব্রিজ এবং গুরুত্বপূর্ণ সৈয়দ আলী সড়কও এখন বিলীন হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে গেল মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্কুল রক্ষায় এই স্থানে কিছু জিও ব্যাগ দিলেও পাশের অংশে এখনো ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও রাইখালী সুলতানিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নুরুল আজিম জানান, গত কয়েক বছরে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে আমার পরিচালনাধীন মাদ্রাসাসহ শত শত বসতবাড়ি ও সড়ক মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রত ব্যবস্থা না নিলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের দাবি জানান, কর্ণফুলী নদীর পূর্ব কোদালার রাইখালী থেকে কোদালা ব্রীজ পর্যন্ত দ্রুত ব্লক বসিয়ে স্থানীয় দরিদ্র শ্রেণির মানুষের ভিটেমাটি ও জনপদ যেনো রক্ষা করা হয়। এজন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার অসহায় মানুষ। জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে জনগণ আবারও রাজপথে নেমে আসবে
পরবর্তী নিবন্ধলোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির বর্ণাঢ্য স্বাগত মিছিল