রাউজানে সন্ত্রাসীদের সাথে ‘গোলাগুলিতে’ ১২ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। বুধবার রাতে দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়া এলাকায় সন্ত্রাসী জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমের পাহাড় সংলগ্ন আস্তানায় এ ‘গোলাগুলির’ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম জেলা ও রাউজান পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত টিম সেখানে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।
পরে সেখান থেকে দেশিয় তৈরি অস্ত্র, রাইফেলের বিপুল সংখ্যক গুলি ও সন্ত্রাসীদের গায়ে রাখা জ্যাকেট পুলিশ উদ্ধার করেছে। এই অভিযানে গুলিবিদ্ধ হওয়া দিলদার হোসেন নামে এক সন্ত্রাসীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলির মধ্যে রয়েছে ১১৯ রাউন্ড চায়নিজ রাইফেলের গুলি, ৬টি কার্তুজ,একটি দোনলা ,একটি একনলা কাটা বন্দুক, ৪টি রাম দা ও ২টি গুলি রাখার জ্যাকেট।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদুল আলম জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই আস্তানায় অবস্থানরত সন্ত্রাসী আলমসহ তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এসময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়লে দুই পক্ষে গুলি বিনিময় হয়। এই ঘটনায় শর্টগানের গুলিতে এক সন্ত্রাসী আহত হয়। আহত হন অভিযানে থাকা ১২ পুলিশ সদস্য। আহতদের মধ্যে কয়েকজন হলেন, এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মোঃ খোরশেদ আলম, এসআই মোঃ বায়েজিদ মৃধা, এসআই মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস, এএসআই মোঃ রবিউল হোসেন।

সন্ত্রাসীরা পুলিশের অভিযানের মুখে পাশের পাহাড়ে গা ঢাকা দিতে পারলেও একজনকে আহতাবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত জ্যাকেট উদ্ধার করে।
পুলিশের দেয়া তথ্যানুসারে, কদলপুর, পূর্ব রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় তৎপর একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একাধিক অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
পুলিশ সুপারের দেয়া তথ্যে জানা যায়, জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস–এর নেতৃত্বে তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও চাঁদা আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর তারা জনৈক আবু বক্কর চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। পুলিশ বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়ার পর চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে জেলা ও থানা পুলিশের সমন্বিত টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।
জয়নগরে পুলিশের অভিযান টের পেয়ে ডাকাত আলম (৪২), মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২), দিলদার হোসেন (৩৭), মোঃ রুবেল (২৭), মোঃ মামুন–অর–রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) এবং মোঃ বাঁচা (৪৫) সহ সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। সন্ত্রাসীদের আকস্মিক হামলার মুখে পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সাথে আত্মরক্ষার্থে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।













