ম্যাকাই টেস্টে আরও একবার একশ’র নিচে গুটিয়ে গিয়ে বাংলাদেশ দুদিনেই হেরে গেলো বাজেভাবে। বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়ে সিরিজ ড্র করল অস্ট্রেলিয়া। ১৮ উইকেটের প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও ১২ উইকেট পড়ে গেল ৪১ ওভারেই। গতকাল রোববার চা–বিরতির পর প্রথম ওভারেই শেষ হয়ে যায় খেলা। সব মিলিয়ে ৭৫০ বলেই শেষ এই ম্যাচ। টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম ম্যাচ এটি। অস্ট্রেলিয়ায় এর চেয়ে কম বলে টেস্ট শেষ হয়েছে একটিই, সেই ১৯৩২ সালে।
প্রথম দিনে বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেওয়া অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ২১০ রানে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ ৯৫ রানেই। যদিও ম্যাচে দারুণ লড়াইয়ের উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম। বীরোচিত বোলিংয়ে ৭ উইকেট নিয়ে একগাদা রেকর্ড গড়েন বাঁহাতি এই পেসার। কিন্তু ব্যাটারদের ছন্নছাড়া ব্যর্থতায় চাপা পড়ে যায় তার অসাধারণ বোলিং কীর্তি।
টেস্ট ক্রিকেটে ২৬ বছরের পথচলায় প্রথমবার এক টেস্টের দুই ইনিংসেই একশর নিচে আটকে গেল বাংলাদেশ। প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিন পিচ কিছুটা সহজ হয়ে আসে ব্যাটিংয়ের জন্য। কিন্তু সফরের সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং প্রদর্শনী এই দিনটিতেই মেলে ধরে বাংলাদেশ। একের পর এক ব্যাটার আউট হয়েছেন খামখেয়ালি শটে। প্রথম ইনিংসে ১২ রানে ৬ উইকেট শিকারি মিচেল স্টার্ক এবার নিয়েছেন ৩৯ রানে ৪টি। ম্যান অব দা ম্যাচ তিনি, ম্যান অব দা সিরিজও।
সকালে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে দিন শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন ও ন্যাথান লায়নের জুটি দিনের প্রথম সাত ওভার কাটিয়ে দেয় ভালোভাবেই। এক পাশে শরিফুল ভালো বোলিং করলেও আরেক পাশে খুব ভালো করতে পারেননি হাসান মাহমুদ। ৩৮ রানের জুটি ভাঙেন শরিফুলই। নিখুঁত ইনসুইং ডেলিভারিতে গ্রিনকে ভূপাতিত করে এলবিডব্লিউ করে দেন তিনি। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এবার থামেন ৬৭ রানে। শেষ জুটিতে বাংলাদেশকে কিছুটা যন্ত্রণা দিয়ে ২৪ রান যোগ করেন লায়ন ও জশ হ্যাজেলউড। এর মধ্যে তাসকিনের এক ওভারেই লায়নের ছক্কা ও চারসহ আসে ১৭ রান। হ্যাজেলউডকে ফিরিয়ে ইনিংস শেষ করেন তাইজুল। শরিফুলের নামের পাশে তখন ৪৮ রানে ৭ উইকেট। তার এই কীর্তির সুবাস উড়ে যায় সতীর্থদের চরম ব্যাটিং দুঃস্বপ্নে। ১৪৬ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্য ছিল ইনিংস পরাজয় এড়ানো। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে আবার স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে যায় তারা। নড়বড়ে ১০ মিনিটের পর সাদমান ইসলাম আউট হন বাজেভাবে। বল খেলবেন নাকি ছাড়বেন, দ্বিধায় পড়ে শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েই প্রথম বলে বোল্ড হয়ে যান অভিজ্ঞ মুমিনুল হক। সাবধানী শুরুর পর লাঞ্চের একটু আগে কামিন্সের বলে দৃষ্টিকটূ শটে আউট তানজিদ হাসান। টালমাটাল দলকে একটু থিতু করার চেষ্টা করেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। ক্রিজে গিয়েই দারুণ কিছু ড্রাইভ খেলেন শান্ত। স্টার্কের বলে পাঁচটি বাউন্ডারিতে ২১ রানে পৌঁছে যান ১২ বল খেলেই। এরপর মন দেন ইনিংস গড়ে তোলায়। দুই ব্যাটারকেই যখন মনে হচ্ছিল সাবলীল, তখন বাংলাদেশ অধিনায়ক লায়নকে তুলে মারতে চাইলেন এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে। কিন্তু বল গেল সোজা লং অফে স্টার্কের হাতে। এরপর একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। স্টার্কের বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে শরীর থেকে অনেক দূরে খেলে স্লিপে ধরা পড়েন লিটন। সিরিজের তিন ইনিংসেই অভিজ্ঞ এই ব্যাটার আউট হলেন শূন্য রানে। কামিন্সের যে বল ছিল চার মারার মতো, সেটিতেই উইকেটের পেছনে ধরা পড়লেন মেহেদী হাসান মিরাজ। লোয়ার অর্ডারও এ দিন আর লড়াই করতে পারেনি। কামিন্সের বাউন্সারে ফেরেন হাসান মাহমুদ, স্টার্কের দুর্দান্ত ডেলিভারির জবাব পাননি তাইজুল ইসলাম। মুশফিক এক প্রান্তে পড়ে থাকলেও শেষ দিকে স্ট্রাইক দিয়েছেন লোয়ার অর্ডারদের। সেটির খেসারত দিতে হয়েছে দলকে। ৮ উইকেট হারিয়ে চা–বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির পর তিন বলের মধ্যে শেষ দুটি উইকেট নিয়ে নেন লায়ন। ৮০ বলে ২৯ রানে অপরাজিত রয়ে যান মুশফিক। শান্ত ও মুশফিক মিলে করেছেন ৬০ রান। বাকি ৯ ব্যাটারের সম্মিলিত রান ২৮। অতিরিক্ত থেকে এসেছে ৭ রান।
বাংলাদেশের পরের সিরিজ অক্টোবরে দেশের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। নভেম্বরে তারা যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে।











