লিওনেল মেসিকে ছাড়া অচল আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। আবার অতিরিক্ত মেসি নির্ভরতা সমস্যা ডেকে আনতে পারে। শক্তি বদলে যেতে পারে দুর্বলতায়। আর তাই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামার আগে সতর্ক কোচ লিওনেল স্কালোনি।
চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে এখনও পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচের সবগুলো জিতেছে আর্জেন্টিনা। বাকি দলগুলোর মধ্যে একমাত্র ফ্রান্স নিজেদের সব ম্যাচ জিতেছে। স্পেন ও ইংল্যান্ডকেও ড্র করতে হয়েছে। তবে আর্জেন্টিনার সব জয় যে সহজে হয়েছে তা বলা যাবে না। বরং নকআউটে একের পর এক ম্যাচে কঠিন পরিস্থিতি থেকে জিততে হয়েছে। তার নেপথ্যেও সেই মেসিই।
এবার স্কালোনির পরিকল্পনা একটু অন্য রকম। গতিময় ফুটবলের দুনিয়ায় তিনি অলস ফুটবল খেলাতে পছন্দ করেন। তার ফুটবলাররা বল পেলেই গতি কমিয়ে ফেলেন। দেখে মনে হয়, মাঠে ফুটবল খেলতে নয়, হাঁটতে বেরিয়েছেন। কারও কাছে সেটা পরিকল্পনা। কারও কাছে নেতিবাচক, একঘেয়ে ফুটবল। তবে সেই পরিকল্পনাতেই এখনও পর্যন্ত সাফল্য পেয়েছেন স্কালোনি।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কিন্তু কঠিন লড়াই। সেখানে পরিকল্পনায় বদল না করলে হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যামদের হারানো মুশকিল। সেই ম্যাচে নামার আগে মেসিদের শক্তি ও দুর্বলতা দেখে নেওয়া যাক।
মাঝমাঠে শৃঙ্খলা ও বিকল্প : গোল করতে হলে মাঝমাঠই যে আসল ভূমিকা পালন করে তা জানেন স্কালোনি। সেই কারণে মাঝমাঠে তিনি বিকল্প রেখেছেন। গত বার খেলা এঞ্জো ফের্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনার্দো পারেদেস ও রদ্রিগো ডি পল যেমন রয়েছেন, তেমনই জিয়োভানি লে সেলসো ও ভ্যালেন্টিন বার্কোর মতো তরুণ রয়েছেন। পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা বদলাতে পারবেন তিনি। ম্যাক অ্যালিস্টার ও পারেদেস যেমন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, তেমনই উল্টোদিকে এঞ্জো, ডি পলদের মতো অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে দলে রেখেছেন স্কালোনি। এখনও পর্যন্ত মাঝমাঠ নিজেদের কাজ করেছে।
কিপার মার্তিনেজ : গত বার আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জেতার নেপথ্যে বড় কারণ ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস ও ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে তিনিই নায়ক ছিলেন। মার্তিনেজ বার বার প্রমাণ করেছেন, চাপের মুখে জ্বলে ওঠেন তিনি। এ বার গোল খেয়েছেন। কিছু গোলের ক্ষেত্রে তাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কিছু ভাল সেভও করেছেন।
ফিনিশার মেসি : এ বারের বিশ্বকাপে মেসি খেলবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি খেলছেন। শুধু খেলছেন নয়, গত বারের থেকেও ভাল খেলছেন। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচেই গোল করেছেন। চাপ কিছুটা কমেছে স্কালোনির।
দুর্বলতা : ৩৯ বছর বয়সে একের পর এক ম্যাচে নিজেকে নিংড়ে দিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই নকআউটে দুটি ম্যাচ ১২০ মিনিট খেলেছেন। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ দিকে ক্লান্ত দেখাচ্ছিল মেসিকে। এত ধকল সামলানো কঠিন। মেসি বলেই হয়তো পারছেন। কিন্তু তাকেই যদি সব করতে হয় তা হলে সমস্যা বাড়বে আর্জেন্টিনার।
এছাড়া নিকোলাস ওটামেন্ডির বয়স হয়েছে। গতি কমেছে। ফলে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। গঞ্জালো মন্টিয়েল, নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোরা রয়েছেন। কিন্তু ওটামেন্ডির বিকল্প পাওয়া কঠিন। আর্জেন্টিনার রক্ষণ একটি ট্রানজিশন বা রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যা সমস্যার কারণ হতে পারে। বাধ্য হয়ে পারেদেসকে রক্ষণের সামনে ব্লকার হিসাবে খেলাতে বাধ্য হচ্ছেন স্কালোনি। তার পরেও প্রতি ম্যাচেই গোল খাচ্ছে আর্জেন্টিনার রক্ষণ। সেটা চিন্তার বিষয়।
মেসির বিকল্প নেই : মেসির উপরেই গোটা দল নির্ভর করে। গত বার একটি ম্যাচ বাদে বাকি সব ম্যাচে গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে টাইব্রেকারের আগে দলের তিনটি গোলের মধ্যে দুটিই তার পা থেকে এসেছিল। এবারও তাই। মেসির বিকল্প এখনও তৈরি করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে তাকে যে সব প্রতিপক্ষ জোনাল মার্কিংয়ে আটকে রাখবে তা স্পষ্ট। মেসি আটকে গেলে সমস্যা হচ্ছে আর্জেন্টিনার। যেমনটা হয়েছে মিশরের বিরুদ্ধে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত। যেমনটা হয়েছে সুইসদের বিরুদ্ধে। ইংল্যান্ডও কিন্তু মেসিকে ছেড়ে রাখবে না। স্কালোনি তা জানেন। মেসি আটকে গেলে অন্য কেউ এগিয়ে না এলে সমস্যা হবে আর্জেন্টিনার।












