মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর চুনতির সীরত মাহফিল

মোহাম্মদ মারুফ, লোহাগাড়া | শনিবার , ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ

লোহাগাড়া উপজেলার চুনতিতে চলছে ঐতিহ্যবাহী ১৯ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল। গত ২৫ আগস্ট শুরু হওয়া ৫৬তম এ আয়োজন আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ফজরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে। দীর্ঘ এ আয়োজনকে ঘিরে চুনতিতে বিরাজ করছে ধর্মীয় আবহ। প্রতিদিনের সীরাতের আলোচনা ও মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ।

জানা যায়, চুনতির সীরাত মাহফিল স্থানীয় মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। বছরের পর বছর ধরে এ মাহফিলকে ঘিরে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আবেগ ও প্রত্যাশা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ এখানে আসছেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন ও আদর্শের কথা শুনতে। যুগশ্রেষ্ঠ আলেম হযরত মাওলানা হাফেজ আহমদ (রহ.), যিনি শাহ্‌ সাহেব কেবলা চুনতি নামে পরিচিত। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত এ জনপদে সীরাতের আলোচনার এ ধারাবাহিকতা সময়ের সাথে আরও বিস্তৃত হয়েছে। চুনতির এ মাহফিল এখন শুধু লোহাগাড়া বা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ এতে অংশ নিতে আসেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সীরাত প্রাঙ্গণে জুমার নামাজ আদায় করতে হাজার হাজার মুসল্লির সমাগম হয়েছে। নামাজের আগে ও পরে তাবরুক গ্রহণের জন্য ছিল দীর্ঘ সারি। নারীপুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর ছিল মাহফিল প্রাঙ্গণ। দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক মুসল্লি জুমার নামাজ ও সীরাতের আলোচনা শুনতে সকালেই প্রাঙ্গণে এসে অবস্থান নেন। বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। তারা মুসল্লিদের বসার স্থান দেখিয়ে দেওয়া, শৃঙ্খলা রক্ষা, পানি সরবরাহ ও তাবরুক বিতরণে সহযোগিতা করেন। জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে দুপুরের দিকে সীরাত প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। মাহফিলকে ঘিরে চুনতি বাজার ও আশপাশের এলাকাতেও দেখা যায় বাড়তি ব্যস্ততা।

মাহফিল আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ১৯ দিনব্যাপী এ আয়োজন সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজক কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করছেন। মুসল্লিদের বসার স্থান, সুপেয় পানি সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগত মুসল্লি ও অতিথিদের জন্য প্রতিদিন তাবরুকেরও ব্যবস্থা রয়েছে। আবদুল আলম নামে এক প্রবীণ মুসল্লি জানান, অনেক বছর ধরে চুনতির মাহফিলে আসছি। সময় বদলেছে, আয়োজন বড় হয়েছে, মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু নবীজির সীরাত শোনার যে আবেগ, সেটি আগের মতোই আছে। মাহফিলের প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া উপকমিটির আহ্‌বায়ক শাহজাদা তৈয়বুল হক বেদার জানান, ১৯ দিনব্যাপী এত বড় একটি ধর্মীয় আয়োজন পরিচালনা করা সহজ নয়। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিদিনের কর্মসূচি, আলোচক, অতিথি ও মুসল্লিদের ব্যবস্থাপনায় আয়োজক কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করছেন। মাহফিল মোতাওয়াল্লী কমিটির সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম আবুল কালাম আজাদ জানান, ১৯ দিনব্যাপী সীরাত মাহফিল সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাহফিল প্রাঙ্গণে বসার স্থান, সুপেয় পানি ও তাবরুকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আয়োজক কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহিম্মত মুহুরী আদর্শ সংঘের ৪৪তম বর্ষপূর্তি
পরবর্তী নিবন্ধজেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের বিশেষ সাধারণ সভা আজ