কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় এবার মাদ্রাসার সুপারের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার, নগদ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ও মূল্যবান সম্পদ লুট করে সশস্ত্র ডাকাতদল। এমনকি এক ডাকাতকে চিনতে পেরে ঝাঁপটে ধরায় সশস্ত্র ডাকাতদল বাড়ির কর্তা মাদ্রাসা সুপারের বড় সন্তান দিদারুল হককে (২৪) রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কাজলী বাপের চর এলাকার বাসিন্দা ও ঢেমুশিয়া মোহছেনিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবদুল মোমেন হেলালীর বাড়িতে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবদুল মোমেন মাদ্রাসার দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এই সুযোগে গতকাল ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে ৭–৮ সদস্যের সশস্ত্র ডাকাতদল তার বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় কৌশলে বাড়ির ভেতরে ঢুকে ঘুমন্ত পরিবার সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মির পর লুট করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, মা–বাবার হজে যাওয়ার জন্য আলমারিতে রক্ষিত প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং মূল্যবান সম্পদ। এ সময় এক ডাকাতকে চিনে ফেলায় সুপারের সন্তান দিদারুল হক তাকে ঝাপটে ধরে। এই অবস্থায় সশস্ত্র ডাকাতেরা ধারালো রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপালে গুরুতর আহত হয় দিদার। এ সময় পরিবার সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দিদারুল হককে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ডাকাতকবলিত মাদরাসা সুপারের কন্যা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মণি বলে, মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে ডাকাতদল আমাদের বাড়িতে হানা দিয়ে কৌশলে ঢুকে পড়ে এবং সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। আম্মুর রুমে আলমারিতে রক্ষিত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, আব্বু–আম্মুর হজ্জে যাওয়ার জন্য সংরক্ষিত প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় আমার বড় ভাই দিদারুল হককে রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেনের। তবে কক্সবাজার জেলা পুলিশের চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাস জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত করাসহ তাদের আটক করতে পুলিশ কাজ করেছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থলে ডাকাতদলের ফেলে যাওয়া একটি ব্যবহৃত কাপড়ের সূত্র ধরে ডাকাত বাহাদুরের ভাই ডাকাত রেজাউলকে পুলিশ আটক করেছে। সে সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুর এলাকার মৃত আবদু সালামের ছেলে।











