চন্দনাইশের পূর্ব জোয়ারা এলাকায় গৃহবধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে তার স্বামী, শাশুড়ি ও ননদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। একইসাথে তাদের হেফাজতে থাকা ভিকটিমের দুই শিশুকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট–১ আদালতের বিচারক আব্দুল হান্নান এ আদেশ দেন। এর আগে দুই শিশুকে সাথে নিয়ে ভিকটিমের স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে দেন।
যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তারা হলেন– ভিকটিমের স্বামী আরিফুল ইসলাম জিফাত, শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম, ননদ নাদিয়া আক্তার এবং ভিকটিমের দুই শিশু ২ বছর ৬ মাস বয়সী রবিউল হাসান আরাফ ও ৭ মাসের জাইপা ইসলাম। আসামি পক্ষের আইনজীবী ফোরকান মোহাম্মদ আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুই শিশুর দেখভাল করার অন্য কেউ না থাকায় মানবিক কারণে বাবা, দাদী ও ফুফুর জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আদালত উক্ত আবেদন নামঞ্জুর করে দুই শিশুসহ তাদের বাবা, দাদী ও ফুফুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আমার মক্কেলদের বিরুদ্ধে সমন দিয়েছিলেন আদালত। উক্ত সমনের প্রেক্ষিতে তারা আত্মসমর্পণ করেছিলেন।
আদালতসূত্র জানায়, যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে–দাবি করে চলতি বছরের ১০ মার্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন তার বাবা মনির আহমদ। চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১ এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ১১(ক)/৩০ ধারায় নালিশী মামলাটি দায়ে করা হয়েছিল। তখন আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেয়। সংস্থাটি তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে গত ৬ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা তথা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
আদালতসূত্র আরো জানায়, ঘটনার দিন তথা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজ শয়নকক্ষ থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিশের পক্ষ থেকেও একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ২০ এপ্রিল আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিকটিম আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তা একজন শান্ত প্রকৃতির সৎ চরিত্রের গৃহবধূ ছিলেন। শুধুমাত্র স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।












