ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৭০০ ছাড়াল

| বুধবার , ১ জুলাই, ২০২৬ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পাঁচ দিনের মাথায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। এরমধ্যে প্রায় অলৌকিক উদ্ধারের সংখ্যা বিরল হয়ে উঠেছে আর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকারি সহায়তার অভাবে দেশজুড়ে হতাশা বাড়ছে। নিহতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো প্রায় ১৪০ জন আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে শিশুও আছে। বুধবার স্থানীয় সময় বিকালে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার আর তার এক মিনিটের কম সময়ের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে উল্টে পড়া একটি হোটেলে ছিলেন তারা। খবর বিডিনিউজের।

রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার উদ্ধার প্রচেষ্টার পঞ্চম দিন সরকারি হিসাবে দেখা গেছে প্রায় ২০০ ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে আর কয়েকশ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি আহতের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার পশ্চিমে এল খুনকিতো নামের ছোটে একটি পাহাড়ি অঞ্চল মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি আর অল্প কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে সেখানে দেখা গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। আশপাশের কৃষকরা ও বাসিন্দারা সেখানে দুর্যোগে পড়া লোকজনকে খাবার ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক মহল বিপর্যয়ের শিকার হওয়া ভেনেজুয়েলাকে সাহায্য করার জন্য একত্রিত হয়েছে। তবে অধিকাংশ সহায়তাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য লা গুয়েইরায় যাচ্ছে। তেল সমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ৩০টি দেশ থেকে সাহায্য পেয়েছে। ইতোমধ্যে এসব দেশ থেকে এক হাজার মেট্রিক টন সরবরাহ ও ৩৬০০ জনেরও বেশি উদ্ধারকর্মী ও সাহায্যকর্মী এসে পৌঁছেছেন। তাদের সঙ্গে ১১৮টি তল্লাশি ও উদ্ধারকারী কুকুরও এসেছে। কতোজন এখনও বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আছেন তার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। যেসব ওয়েবসাইটে লোকজন তাদের নিখোঁজ প্রিয়জনদের নাম, ঠিকানা লিপিবদ্ধ করছেন সেখানকার হিসাব অনুযায়ী নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার। ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের ভাই ও জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেস সোমবার নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৭১৯ বলে জানান। পাশাপাশি আহতের সংখ্যা ৫০৩৪ ও গৃহহীনের সংখ্যা ১৫৮৬৬ জন। শিল্প সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, সোমবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দেশটির মধ্যাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগার, একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স এবং অন্য শিল্প কারখানাগুলো চালু করা যায়নি।

এসব সমস্যা সত্ত্বেও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডভিএসএ দেশজুড়ে কোনো জ্বালানি সংকট হবে না বলে আশা করছে। ভেনেজুয়েলার পূর্বাঞ্চলীয় ও পশ্চিমাঞ্চলীয় তেল শোধনাগারগুলো সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করতে পারবে বলে আশাবাদী তারা। তেলের উৎপাদন ও রপ্তানি আগের মতোই স্বাভাবিক আছে বলে সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদেশে ফিরতে বাধা দিচ্ছে ভেনেজুয়েলা সরকার : মাচাদো
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম একাডেমির সম্মাননা অনুষ্ঠান