মবের অপসংস্কৃতিকে শক্তভাবে মোকাবিলা করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্তের দুর্গম এলাকায় থার্মাল ও নাইট-মিশন সক্ষম ড্রোন ব্যবহার হবে

| বুধবার , ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ

মবের অপসংস্কৃতিকে শক্তভাবে মোকাবিলা করার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মবের কথা যা বললেন সেটা সাধারণ আইনের মধ্যেই আছে, তার জন্য আলাদা কোনও আইনের প্রয়োজন নেই। আমরা খুব সজাগ আছি, সচেতন আছি। বাংলাদেশের মবের যে অপসংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেটাকে আমরা শক্তভাবে মোকাবিলা করব।

এর আগে মন্ত্রী নগরের আখালিয়া এলাকায় সিলেট বিজিবির সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ উদ্বোধন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। খবর বিডিনিউজের।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা খুব আধুনিক আইন নিয়ে এসেছি। সেটা এই সমস্ত মামলাগুলো সম্ভবত পুরাতন আইনের করা। সেই আইনে ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থা ছিল না। এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে মামলার সংখ্যা অধিক। যেমন ঢাকায় ৮০ হাজার মাদকদ্রব্যের মামলা আছে, কক্সবাজারে আছে ২০ হাজারের ওপর এবং চট্টগ্রামে আছে ৩০ হাজারের ওপর। আমাদের জনবল তো ছিল না, ইনভেস্টিগেশন করার মতো তো সক্ষমতা ছিল না, ট্রাইব্যুনালের কোনো বিধান ছিল না এবং ল্যাবরেটরির কোনো তেমন সংস্থান ছিল না দুএকটা জেলা বাদে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে এই আইনের মধ্য দিয়ে খুব শক্তিশালী একটি অধিদপ্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সাইবার স্পেসে মাদক কেনাবেচাসহ অন্যান্য সবকিছু আমরা যাতে অ্যাড্রেস করতে পারি এবং উদ্ধার ও মামলা করতে পারি, সেজন্য প্রত্যেকটা জেলায় মালখানা, হাজতখানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা ডগ স্কোয়াড রেস করব, সেটাও আইনে রাখা হয়েছে।

মাদক চোরাকারবারিরা অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত থাকে, বিপরীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকর্মচারীদের কোনো হাতিয়ার ছিল না জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অত্যাধুনিক হাতিয়ারের ব্যবস্থা আমরা এখানে রেখেছি, তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য চোরাচালান, অপব্যবহার, ব্যবসায়ী ইত্যাদির ক্ষেত্রে অপরাধ চিহ্নিত করে ক্ষেত্রমতে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মামলার আধিক্যের কারণে অপরাধীরা সুযোগ পেয়ে গেছে, হতে পারে। আইনি ব্যবস্থায় আইনি কাঠামো আমরা খুব শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলছি। পরে জনবল এবং প্রযুক্তিগত সমস্ত সহায়তা আমাদের বাহিনীকে দেওয়া হবে। আশা করি এগুলো নিয়ন্ত্রণে আসবে।

সীমান্তের দুর্গম ও জনবল দিয়ে নজরদারি করা কঠিন এলাকাগুলোতে থার্মাল ও নাইটমিশন সক্ষম ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার, মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হবে।

বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিজিবির এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ একটি অনন্য ঘটনা। মেধা, প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে বিভিন্ন বাহিনী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে।

সীমান্তে নজরদারি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেসব এলাকায় জনবল দিয়ে ম্যানুয়ালি নজরদারি করা সম্ভব নয় অথবা খুবই কঠিন, সেখানে ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স, নাইট মিশন ও থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে সীমান্তের অপর পারে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি চোরাচালানমাদক ও অস্ত্র পাচারের মতো কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাঙ্গুনিয়ায় তুচ্ছ বিষয়ে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
পরবর্তী নিবন্ধরাঙ্গুনিয়ায় বন বিভাগের অভিযান, সরকারি সংরক্ষিত জমি দখলমুক্ত