ভ্যানচালক ভাই ও স্বামী পরিত্যক্তা বোনের সামনে এখন অন্ধকার

বন্যায় নদীগর্ভে বিলীন বাড়ি

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া | রবিবার , ১২ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ

ছয় দিনের লাগাতার বর্ষণ ও পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে প্রবল বেগে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায়। একই সাথে ভেসে উঠছে এবারের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। বন্যায় একের পর এক বিধ্বস্ত হয়েছে বসতবাড়ি। এ রকম ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন ভ্যানচালক কফিল উদ্দিন ও তার বাকপ্রতিবন্ধী বোন ছালেহা বেগম। কফিল উদ্দিন ছোটকাল থেকে ভ্যানগাড়ি চালিয়ে ছোট্ট একটি জায়গায় গড়ে তুলেছিলেন একটি পাকা বাড়ি। সেই বাড়ি গত শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতেই নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে থাকে। এই অবস্থায় স্ত্রী জাহানারা বেগম ও সাত সন্তান (চার কন্যা ও তিন ছেলে) নিয়ে দুর্বিষহ জীবন শুরু হয়েছে ভ্যানচালক কফিল উদ্দিনের। একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে চোখেমুখে অন্ধকার দেখা ভ্যানচালক কফিল উদ্দিন বলেন, ‘আমি খুব ছোটকাল থেকেই ভ্যানগাড়ি চালিয়ে ছোট্ট এই জায়গায় গড়ে তুলেছিলাম একটি পাকা বাড়ি। কিন্তু এবারের ভয়াবহ বন্যা ও মাতামুহুরী নদীতে প্রবল বেগে নেমে আসা উজানের ঢলের পানির স্রোতে সেই বাড়িটি বিলীন হয়ে যায়।’

কফিল উদ্দিনের পাকা বাড়ির সঙ্গে পাশে থাকা তাঁর বড় বোন স্বামী পরিত্যক্তা বাকপ্রতিবন্ধী ছালেহা বেগমের একমাত্র বসতবাড়িটিও নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, ছালেহা বেগমের সঙ্গে রামুর গর্জনিয়া এলাকার জনৈক হাবিবুর রহমানের বিয়ে হয়। ছালেহা বেগমের ছোট ভাই ভ্যানচালক কফিল উদ্দিন জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে হওয়া বিয়ের কয়েকমাস পরই বড় বোন ছালেহা বেগমকে ছেড়ে চলে যান দুলাভাই হাবিবুর রহমান। একবছরের মাথায় বোনের কোলজুড়ে আসা একমাত্র সন্তানকে নিয়ে পরবর্তী জীবন কাটিয়ে দেওয়ার জন্য বাপের ভিটায় ছোট্ট একটি জায়গায় তৈরি বাড়িতে বসতি স্থাপন করেন ছালেহা। এর পর থেকে মানুষের বাড়িঘরে কাজ করে। তার ছেলেও ভ্যানগাড়ি চালায়। একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এখন রাস্তার ওপর ঠাঁই হয়েছে তাদের।

চকরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দিলীপ দে দৈনিক আজাদীকে জানান, এখনো চকরিয়া উপজেলার ১১ ইউনিয়ন থেকে পুরোপুরি বানের পানি নামতে পারেনি। যেসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে সেখানে বহু বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাই বানের পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পরই প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে কী পরিমাণ বসতবাড়ি এবারের বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে।

পিআইও দিলীপ দে বলেন, ‘ভয়াবহ এই বন্যায় যেসব বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হবে, সেসব পরিবারের সঠিক তালিকা ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণের পর প্রয়োজনীয় অর্থসহ নির্মাণসামগ্রী বরাদ্দ প্রাপ্তিসাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে সরকারিভাবে সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা উজানের ঢলের পানির প্রবাহ কমে আসাসহ বৃষ্টিপাত বন্ধ হওয়ায় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। সেইসাথে বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষের মাঝে সরকারিভাবে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে প্রতিটি ইউনিয়নে।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধএলসিএল পণ্য নির্ধারিত সময়ে খালাস না করলে বিলম্ব ফি চার গুণ
পরবর্তী নিবন্ধকৃষ্ণ খালের স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় বন্ধ, ভোগান্তি