ভারতের লোকসভাতেও মমতার হাতছাড়া তৃণমূল, বিজেপিকে ২০ এমপির সমর্থন

| মঙ্গলবার , ৯ জুন, ২০২৬ at ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ভারতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভায় পরিষদীয় দল আগেই হাতছাড়া হয়েছে। এবার লোকসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দল হাতছাড়া হল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির এক মাসের মাথায় গত ৩ জুন আনুষ্ঠানিক যে ভাঙনের পালা শুরু হয়েছিল তৃণমূলে গতকাল সোমবার তা আরও বাড়ল। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সদস্যের মধ্যে ২০ জনই ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। বিদ্রোহীরা সোমবার চিঠিও পাঠিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে। তারা চিঠিতে এনডিএ জোটকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এদিন পদত্যাগ করেছেন উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার দুই সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় এবং কোয়েল মল্লিকও। আরও কয়েক জন এই তালিকায় শামিল হতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। সুখেন্দুশেখরের পদত্যাগের পরই স্পিকারকে চিঠি পাঠানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। খবর বিডিনিউজের।

যতজন সাংসদ বিদ্রোহী হয়েছেন, তাতে লোকসভায় তাদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে পদক্ষেপের দাবি তোলা সম্ভব নয় তৃণমূলের পক্ষে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় পদক্ষেপ এড়াতে বিদ্রোহীদের দলের সাংসদদের দুইতৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে লোকসভায় দলের দুই তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি সাংসদ রয়েছেন বিদ্রোহীদের সঙ্গে। এমন এক দিনে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে এই ভাঙন ধরল যখন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক রাজধানী দিল্লিতেই আছেন ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে বৈঠক করতে।

তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক হিসাবে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন কাকলি ঘোষ। যদিও দলীয় বৈঠকে কাকলি চিফ হুইপ ছিলেন না। কিন্তু অধিবেশন না চলার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্পিকারের দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে জানানো হয়নি। ফলে নিজের পদের ‘সদ্ব্যবহার’ করেছেন কাকলি। যদিও তিনি বলছেন, দলের অন্য সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করেই বিজেপিকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাকলি সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে বলেছেন, আমাকে নিয়ে তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ এনডিএকে সমর্থন করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখেছি। আমরা জনতার রায় মেনে নিয়েছি। আমরা মনে করি ভবিষ্যতে এনডিএর সঙ্গেই আমাদের চলা উচিত।

ঘটনাপ্রবাহ দেখে রাজনীতি বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, পরিষদীয় এবং সংসদীয় দলে ভাঙনের এই ধারা প্রভাব ফেলবে তৃণমূলের সংগঠনে। এর পরবর্তী ধাপে দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’ মমতার হাতছাড়া হবে বলে মনে করছেন তারা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধউত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং
পরবর্তী নিবন্ধফিলিপাইনে ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে বহু ভবন, ৩২ প্রাণহানি