ভারতের দক্ষিণের রাজ্য কেরালায় একটি আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। কেরালার থ্রিশুরে এ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। সে সময় জনা চল্লিশেক লোক আসন্ন এক উৎসবের জন্য একগুচ্ছ শেডের নিচে আতশবাজি বানাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর। খবর বিডিনিউজের।
এর আগে রোববার পার্শ্ববর্তী তামিল নাড়ুতে একটি আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছিল। ভারতে প্রায়ই আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষগুলোর উদাসীনতা এর জন্য অনেকটাই দায়ী। সবচেয়ে বেশি বিস্ফোরণ হয় তামিল নাড়ুর শিবাকাশি এলাকা ও তার আশপাশে; দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া আতশবাজির সিংহভাগই এখানে বানানো হয়। থ্রিশুরে মঙ্গলবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রথম বিস্ফোরণের পর সেখানে আরও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যার ফলে উদ্ধারকাজের গতিও ধীর হয়ে যায়। সাধারণত ধানক্ষেতের কাছে অস্থায়ী শেডের মধ্যে আতশবাজি বানানো হয়, অনেক ক্ষেত্রে সেসব জায়গায় যাওয়ার রাস্তাও থাকে না। এসব কারণে জরুরি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছেও দ্রুত কাজে নামতে পারে না।
থ্রিশুরে বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা গেছে। এত জোরে শব্দ হয়েছে যে অনেকে একে ভূমিকম্প ভেবেছে। বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের বাড়িঘরেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিস্ফোরণের পর হতাহতদের টেনে বের করতে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ছুটে আসার পর যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল প্রত্যক্ষদর্শীরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বর্ণনা দিয়েছেন।
কেরালার রাজস্বমন্ত্রী কে রাজন বলেছেন, বার্ষিক হিন্দু মন্দির উৎসব থ্রিশুর পুরাম উপলক্ষে সব আতশবাজি ইউনিটকে আতশবাজি তৈরি ও তা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখাসহ যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। যে কারখানায় বিস্ফোরণটি হয়েছে, সেখানকার কর্মীরা থিরুভাম্বাদি মন্দিরের জন্য আতশবাজি বানাচ্ছিলেন। এই মন্দিরই থ্রিশুর পুরামের সমাপনী প্রদর্শনীর মূল দুই অংশগ্রহণকারীর একটি। পৌর চেয়ারম্যান পিএন সুরেন্দ্রন থ্রিশুরে কারখানায় বিস্ফোরণের জন্য বিকালের ভয়াবহ তাপমাত্রাকে দায়ী করলেও কারণ এখনও স্পষ্ট নয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। থিরুভাম্বাদি মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে গিরিশ কুমার বলেছেন, প্রতিটি প্রদর্শনীর জন্য ২ হাজার কেজি আতশবাজি মজুদ রাখার অনুমতি ছিল তাদের। বিস্ফোরণের ঘটনা এবং দায় কার তা খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেছেন, অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসায় প্রয়োজন হলে অন্য রাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আনবে তার সরকার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।














