দেশের ব্যবসা–বাণিজ্যে একধরনের স্থবিরতা চলছে। কোথাও নতুন বিনিয়োগ নেই। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের বড় ধাক্কা লেগেছে তৈরি পোশাক খাতে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে উৎপাদন কমে গেছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। গাজীপুর–আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি জেনারেটর চালানোর জন্য চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডিজেলও মিলছে না। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি কার্যক্রম। এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো কম দামে ও দ্রুত সরবরাহ পাওয়া যায়– এমন উৎস থেকে পণ্য নেয়ার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের রপ্তানি খাত নিয়ে নানাবিধ সংকট দেখছেন উদ্যোক্তারা।
দেশে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে তৈরি পোশাক খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে, বিদেশি ক্রেতারা ধীরে ধীরে বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারতসহ অন্যান্য প্রতিযোগী দেশে ক্রয়াদেশ সরিয়ে নিচ্ছেন। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার–উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এক ক্রেতার সঙ্গে আলাপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় অনেক ক্রেতা নতুন অর্ডার দিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং বিকল্প হিসেবে ভারতসহ অন্যান্য দেশে ঝুঁকছেন।’তার ভাষায়, ইতোমধ্যে বড় বড় বায়িং হাউসগুলো বাংলাদেশে অর্ডার কমানোর বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে আগামী জুলাই–আগস্ট মৌসুমের অর্ডার প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং নতুন অর্ডার আসার গতি ধীর হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে অর্ডার কমছে, অন্যদিকে উৎপাদন কমছে। অর্ডার অনুযায়ী সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ। ইতোমধ্যে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারখানার নিভু নিভু অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে দেশে যতটুকু জ্বালানি আছে– তা ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা আবাসিক মিশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। পাশাপাশি সরকারকে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বড় সংকটের আগেই বিকল্প পথ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, শুরুতেই জ্বালানির দাম বাড়ালে হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানিতে ভর্তুকি না দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে বিক্রি করা দরকার ছিল। এতে মানুষের পকেটে আঘাত লাগত, জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতো। তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে তেল আমাদানিতে একটি মাত্র পথের ওপর নির্ভরশীল হওয়া। ধীরে ধীরে বিকল্প পথ বের করতে হবে। পাশাপাশি দেশের ভেতরে ও গভীর সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধান করে উত্তোলনের ব্যবস্থা করা।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম পত্রিকান্তরে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে অন্যান্য খাতের মতো শিল্প খাতেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সবার আগে আমাদের পণ্যের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে পণ্যের মূল্য বেড়ে যাবে। অথচ ক্রেতার সঙ্গে ইতিমধ্যেই আমাদের পণ্যের রপ্তানি মূল্য চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। এখন আমরা তাদের বলতে পারবো না যে, দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে– তোমরা মূল্য বাড়াও।
বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে তৈরি পোশাক খাত
ব্যবসাবান্ধব নীতি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে
দেশের ব্যবসা–বাণিজ্যে একধরনের স্থবিরতা চলছে। কোথাও নতুন বিনিয়োগ নেই। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের বড় ধাক্কা লেগেছে তৈরি পোশাক খাতে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে উৎপাদন কমে গেছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। গাজীপুর–আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি জেনারেটর চালানোর জন্য চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডিজেলও মিলছে না। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি কার্যক্রম। এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো কম দামে ও দ্রুত সরবরাহ পাওয়া যায়– এমন উৎস থেকে পণ্য নেয়ার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের রপ্তানি খাত নিয়ে নানাবিধ সংকট দেখছেন উদ্যোক্তারা।
দেশে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে তৈরি পোশাক খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে, বিদেশি ক্রেতারা ধীরে ধীরে বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারতসহ অন্যান্য প্রতিযোগী দেশে ক্রয়াদেশ সরিয়ে নিচ্ছেন। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার–উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এক ক্রেতার সঙ্গে আলাপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় অনেক ক্রেতা নতুন অর্ডার দিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং বিকল্প হিসেবে ভারতসহ অন্যান্য দেশে ঝুঁকছেন।’তার ভাষায়, ইতোমধ্যে বড় বড় বায়িং হাউসগুলো বাংলাদেশে অর্ডার কমানোর বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে আগামী জুলাই–আগস্ট মৌসুমের অর্ডার প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং নতুন অর্ডার আসার গতি ধীর হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে অর্ডার কমছে, অন্যদিকে উৎপাদন কমছে। অর্ডার অনুযায়ী সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ। ইতোমধ্যে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারখানার নিভু নিভু অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে দেশে যতটুকু জ্বালানি আছে– তা ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা আবাসিক মিশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। পাশাপাশি সরকারকে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বড় সংকটের আগেই বিকল্প পথ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, শুরুতেই জ্বালানির দাম বাড়ালে হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানিতে ভর্তুকি না দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে বিক্রি করা দরকার ছিল। এতে মানুষের পকেটে আঘাত লাগত, জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতো। তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে তেল আমাদানিতে একটি মাত্র পথের ওপর নির্ভরশীল হওয়া। ধীরে ধীরে বিকল্প পথ বের করতে হবে। পাশাপাশি দেশের ভেতরে ও গভীর সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধান করে উত্তোলনের ব্যবস্থা করা।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম পত্রিকান্তরে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে অন্যান্য খাতের মতো শিল্প খাতেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সবার আগে আমাদের পণ্যের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে পণ্যের মূল্য বেড়ে যাবে। অথচ ক্রেতার সঙ্গে ইতিমধ্যেই আমাদের পণ্যের রপ্তানি মূল্য চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। এখন আমরা তাদের বলতে পারবো না যে, দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে– তোমরা মূল্য বাড়াও।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অভাবে তৈরি পোশাক খাতে সংকট চলছে, সেটি সমাধানের জন্য সমপ্রতি সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। সরকার বলছে, সংকট সমাধানে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, তারা যে প্রধান সমস্যা নিয়ে আসছিল– ফুয়েল ক্রাইসিস, সেটা আমরা তাৎক্ষণিকভাবেই সমাধান করে দিয়েছি। সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে পোশাক ব্যবসায়ীরা আলাদা জ্বালানি কার্ড চেয়েছেন। আমরা সেটা করার বিষয়ে সম্মতি দিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সঙ্গে তাদের ট্যাগ করে দিয়েছি।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দেশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস। তবে জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং প্রতিযোগী দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে খাতটি বর্তমানে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করা এবং ব্যবসাবান্ধব নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে রফতানি বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।










