চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে

বাড়াতে হবে জনবল ও বরাদ্দ

| সোমবার , ৮ জুন, ২০২৬ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

বিশ্ব স্বাস্থ্যের তথ্য অনুসারে বাংলাদেশের ৪২ শতাংশ মানুষ এখনো সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বাইরে, যা ২০৩০ সালে ১৮২২ শতাংশ নামিয়ে আনা সম্ভব বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ডব্লিউএইচও। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটির প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় এসেছে। এছাড়া পাকিস্তানের ৫১, নেপালের ৫৯, মালদ্বীপ ও ভুটানের ৬৫ শতাংশ মানুষ এ সেবা পাচ্ছে। তবে পিছিয়ে রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির মাত্র ৪৫ শতাংশ মানুষ এ সেবার আওতায় রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসব দেশের মানুষ ৭৫৯৫ শতাংশ পর্যন্ত সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। দেশের সব মানুষের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে যথাযথ উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

গত ৬ জুন দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত হয়েছে ‘রোগীর ভারে কাহিল চমেক হাসপাতাল’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, ৬৯ বছর আগে মাত্র ১২০ শয্যা নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের বৃহত্তম হাসপাতালটির যাত্রা শুরু হয়। পরে চার ধাপে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত ২০২২ সালের জুনে শয্যা সংখ্যা ২ হাজার ২০০ তে উন্নীত করা হয়। যদিও বর্তমানে হাসপাতালে গড়ে সাড়ে ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকছে। শয্যা বাড়লেও হাসপাতালের সামগ্রিক সুযোগ সুবিধা বাড়েনি। বিশেষ করে জনবল সংকট রয়েছে। হাসপাতালটি এখনো চলছে পাঁচশত শয্যার জনবল দিয়ে। শয্যার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় অনেক ওয়ার্ডে রোগীদের বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্ট্রোককিডনিসহ অনেক মুমূর্ষু রোগীকে সরবরাহ লাইন না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে অক্সিজেন সেবাও দেয়া যায় না। এছাড়া মেঝেতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের হাঁটু গেঁড়ে বসে চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হয়। অন্যদিকে রাতের বেলায় রোগীর সাথে থাকা মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন সময়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা মিলে অন্তত ৪ কোটি মানুষের একমাত্র চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র চমেক হাসপাতাল। অথচ এই হাসপাতালে জেলা উপজেলা থেকে জটিল ও রেফার করা রোগীরাই আসার কথা। কিন্তু আশপাশের জেলা উপজেলায় সরকারি পর্যায়ে উন্নত সুযোগ সুবিধাসহ হাসপাতাল গড়ে না ওঠার কারণে চমেক হাসপাতালের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যদি রোগীরা সেবা পায় তবে চমেক হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে। চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চমেক হাসপাতালে দিন দিন রোগীর চাপ বাড়ছে। তবে সেই চাপ বাড়ার মধ্যেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে সেবার মানের দিক থেকে সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে ২০২৩ সালে। স্বাস্থ্যসেবার মান, সেবা গ্রহণকারীদের সন্তুষ্টিসহ নানা দিক বিবেচনা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই শ্রেষ্ঠত্বের কথা ঘোষণা করেছে। এই হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম যা আছে এবং সেসবের ব্যবহার কীভাবে করা হচ্ছে, প্রতিদিন কত রোগী ভর্তি হচ্ছেন, শয্যা কতটা শূন্য, কতটা পূর্ণ হচ্ছে, অতিরিক্ত কত রোগী সেবা পাচ্ছেন, স্বাভাবিক ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুর জন্ম নেওয়ার হার, বড় ও ছোট পরিসরের অস্ত্রোপচারের সংখ্যা, রক্ত পরিসঞ্চালন কতটা নিরাপদ, রোগীদের সন্তুষ্টির হার কেমনসব মিলিয়ে দেশের ১৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে র‌্যাঙ্কিং করে থাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু সেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সেবা প্রদান করতে পারছে না। অপর্যাপ্ত বরাদ্দের কারণে হাসপাতাল প্রশাসনের পর্যাপ্ত সেবা প্রদানে নাভিশ্বাস হচ্ছে। বিঘ্ন ঘটছে সেবাব্যবস্থাপনায়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সেবা মাঝে মাঝে বন্ধ থাকে। মনে রাখতে হবে, চিকিৎসাসেবা পাওয়া জনগণের একটি মৌলিক অধিকার। তাই পথঘাটের ছিন্নমূল মানুষ থেকে শুরু করে শত কোটি টাকার মালিকসবার জন্যই যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। চমেক হাসপাতাল সীমিত সাধ্যে যা করেছে, তা সারা দেশের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। কিন্তু চমেক হাসপাতালের নানা সীমাবদ্ধতা তাদের সেবা কার্যক্রমকে সংকুচিত করে রাখবে। রোগী সেবা ও হাসপাতালের মান বাড়াতে জনবল, সরঞ্জাম বাড়াতে হবে। বাড়াতে হবে অন্যান্য সুযোগসুবিধা। মোট কথা, স্বাস্থ্যের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সরকারের মনোযোগ বাড়াতে হবে। বাড়াতে হবে বরাদ্দ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে