ডিজেলের দাম বাড়ার পর বাসের ভাড়া বাড়ানোর বৈঠক চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও বাস মালিক–শ্রমিক প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। বিআরটিএ এ বিষয়ে আজ সোমবার প্রস্তাব দিলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে ব্ৈঠক শেষে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারিনি। সকালে সুপারিশ তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। বাকিটা মন্ত্রণালয় কাটছাঁট করে চূড়ান্ত করবে। তারপর কালই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।’ খবর বিডিনিউজের।
বাসের জ্বালানি ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ানোর পর বাসভাড়া বাড়াতে এদিন সন্ধ্যা ৭টার পরে বনানীতে বিআরটিএয়ের সদর কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অসমাপ্ত রেখে বৈঠক শেষ হয় রাত ১০টায়। বৈঠকে উপস্থিত একজন বলেন, দূরপাল্লা ও মহানগরের চলাচলকারী বাসের ভাড়া ২২ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয় মালিকদের তরফে। বর্তমানে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতিকিলোমিটার ২ টাকা ১২ পয়সা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে তা ২ টাকা ৪৫ পয়সা।
শনিবার রাতে চার ধরনের তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ; যা মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হয়েছে। সরকারের নতুন দর অনুযায়ী, লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ডিজেলের দাম ধরা হয়েছে ১১৫ টাকা। অকটেনে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০, পেট্রোলে লিটারে ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ এবং কেরোসিনে লিটারপ্রতি ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকে বাস মালিক সমিতির নেতারা দাবি করেন, দূরপাল্লার একটি বাস বছরে গড়ে এক লাখ ৬৫০০ কিলোমিটার চলে। সেই হিসাবে গড়ে প্রতি কিলোমিটারে ৭৫ টাকা ৭৫ পয়সা পরিচালন ব্যয় হয়। প্রতি কিলোমিটারে জ্বালানি খরচ হয় ৩৭ টাকা ১০ পয়সা। এর সঙ্গে বাসের আনুষঙ্গিক আরও ১৫টি আইটেম যুক্ত করার পর এবং বাসে গড়ে ৩৫ জন যাত্রী হিসাব করে প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৩৪ পয়সা খরচ হয়। আর মহানগরীর বাসে গড়ে ৪০ জন হিসাব করে খরচ ২ টাকা ৪৯ পয়সা। এর সঙ্গে নতুন তেলের দাম ধরে ভাড়া চায় বাস মালিকরা।














