বাংলাদেশের সঙ্গে ফের বাণিজ্য চালু করতে চায় মিয়ানমার

| সোমবার , ৩ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ

বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির বাধায় বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার সোয়া বছরের মাথায় তা ফের চালুতে আগ্রহ দেখিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো ময়ে গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ আগ্রহ দেখান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা গেলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও জনগণ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত বা অস্থায়ী পরিসরে সীমান্ত বাণিজ্য চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। খবর বিডিনিউজের।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোরও আগ্রহ প্রকাশ করেন কিয়াও সো ময়ে। চলমান সংঘাতের মধ্যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে গেছে। এর ফলে নাফ নদীর মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচলও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পণ্যবাহী জাহাজ থেকে আরাকান আর্মির চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালে এপ্রিলের শুরুতে সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ঘোষণা করে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। এতে শতাধিক আমদানিরপ্তানিকারক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন।

এরপর চলতি বছরে ১ মে মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছায়। তখন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর বিষয়ে অনেকেই আশাবাদী হলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। বর্তমানে ইয়াঙ্গুন থেকে সরাসরি পণ্য আসছে না; কেবল রাখাইন রাজ্য থেকে সীমিত পরিসরে কাঠ আমদানি হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে কোল্ড ড্রিংকস, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। নাফ নদী এলাকায় আরাকান আর্মির সরাসরি কঠোর বাধা না থাকলেও পুরোপুরি বাধা কাটেনি, সে সঙ্গে প্রাণের ঝুঁকি ও আশঙ্কা থাকায় বাণিজ্য সীমিতই রয়েছে।

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য আমদানিরপ্তানি বৃদ্ধি, নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সমপ্রসারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগ সংক্রান্ত যেসব বিষয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ ও বিজনেসটুবিজনেস কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো ময়ে বলেন, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তালিকার যাচাইবাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ পক্ষ দ্রুত প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান অগ্রগতির দাবি জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএ মাসে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
পরবর্তী নিবন্ধহুতিদের ঠেকাতে সৌদি জোটে, ইরানকে আক্রমণ করতে নয় : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা