বজ্রপাতে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি

সাইফুদ্দিন আহমদ সাকী | শুক্রবার , ১ মে, ২০২৬ at ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ

সামপ্রতিক সময়ে দুঃখজনক হলেও বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে চলছে। গত ২৬ এপ্রিল ও ২৭ এপ্রিল দুদিনের মাথায় বজ্রপাতে ২৩ জনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু শুধু দুঃখজনকই নয়, বিষয়টি দেশ ও সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। বজ্রপাত এমন এক ভয়াবহ বিদ্যুৎপ্রবাহ যা মানুষ ও প্রাণির সংস্পর্শ পেলে তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটায়। ফলে বজ্রপাত থেকে মর্মান্তিক মৃত্যু হ্রাসে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি খুবই জরুরি। সরকার গ্রামেগঞ্জে বিশেষ করে চাষী, মাঠে হাওরে কাজের লোক, জেলে মাঝিসহ সাধারণ জনগোষ্ঠীকে মাঠ পর্যায়ে বজ্রপাত থেকে বাঁচার প্রশিক্ষণ বা অনুশীলন করাতে পারে।

বজ্রপাতের সময় মানুষের কী কী করণীয় আর কী কী বর্জনীয় সেই সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনকালো মেঘ ও গুটিগুটি বৃষ্টির সাথে আকাশে গর্জন শুরু হলে বাসায় অবস্থান করা সবচেয়ে নিরাপদ। তবে বাসার বারান্দা, রেলিং, দরজা বা জানালার সংস্পর্শে থাকা যাবে না। দরজা জানালা বন্ধ রাখতে হবে।

বজ্রপাতের সময় কেউ যদি খোলা বিস্তৃত মাঠে থাকে তাহলে সেই সময় বজ্রপাত শুরু হলে কানে আঙুল দিয়ে পায়ের আঙুলের উপর ভর করে নিচু হয়ে বসে পড়তে হবে। আমরা জানি বজ্রপাত গাছপালা, টাওয়ার ও থামের মধ্য দিয়ে তৎক্ষণাৎ জমিতে পৌঁছে। তাই ভূমি থেকে দ্রুত কংক্রিটের ছাদের নিচে অবস্থান নিতে হবে। উঁচু জায়গা এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ বজ্রপাত উঁচু জায়গায় বেশি আঘাত হানে। উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুটি, টাওয়ার, বৈদ্যুতিক তার ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা নিরাপদ। বজ্রপাতের সময় অনেক লোক একসাথে থাকলে তাদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে ৫০ থেকে ৬০ ফুট দূরে দূরে অবস্থান নিতে হবে। একসঙ্গে থাকার কারণে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জে ১৭ জনের একটি বরযাত্রী দলের উপর বজ্রপাত হলে তারা সবাই একসাথে মারা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে ভূমির বিদ্যুৎতায়ন ও সাইড ফ্ল্যাশের কারণে এই হৃদয়বিদারক মৃত্যু ঘটছে। জেলে বা মাঝিরা বজ্রপাতের সময় মাঝনদীতে থাকলে তখন নৌকার ছাউনির নিচে অবস্থান নিতে হবে এবং নৌকা দ্রুত তীরে ভিড়ে পাকা ছাদের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।

বজ্রপাতের সময় নদী, পুকুর, জলাশয়, পানি থেকে দূরে থাকা নিরাপদ। কারণ পানি বিদ্যুৎপরিবাহী। গুটিগুটি বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হলে অনেকে কৈমাছসহ অন্যান্য মাছ ধরতে পুকুর কিংবা জলাশয়ে যায়। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। শহরাঞ্চলেও বজ্রপাতের সময় মানুষজনকে বিষয়গুলো অতি গুরুত্বের সাথে মেনে চলা আবশ্যক। বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি ডিভাইজ এড়িয়ে চলা ভালো। আকাশে ঘনকালো মেঘ জমলে, হালকা বাতাসে বৃষ্টি শুরু হলে এবং বজ্রপাত দেখা দিলে বাসার বাইরে যাওয়া পরিহার করুন। প্রয়োজনে বাসায় বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র ব্যবহার করা যায়। বজ্রপাত থেকে বাঁচতে নিজে সচেতন হোন এবং এর জন্য করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে অন্যদের সচেতন করে তুলুন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঐতিহাসিক মে দিবস
পরবর্তী নিবন্ধশ্রমজীবী মানুষ : উন্নয়নের অঘোষিত কারিগর