বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করল বিমান

খরচ পড়বে ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা

| শুক্রবার , ১ মে, ২০২৬ at ৯:১২ পূর্বাহ্ণ

নানা আলোচনার মধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার একটি হোটেলে এই চুক্তি হয় বলে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী কোম্পানিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১০টি ওয়াইডবডির ‘৭৮৭ ড্রিমলাইনার’ এবং ৪টি ন্যারোবডির ‘৭৩৭ ম্যাক্স’ মডেলের উড়োজাহাজ। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, জ্বালানিসাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এসব নতুন উড়োজাহাজ বিমানের বহর আধুনিকীকরণ, অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সমপ্রসারণে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক এভিয়েশন মার্কেটে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তারা। গত জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মাহবুবুর রহমান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে ক্রয়াদেশ দেওয়ার কথা জানান। তবে তখনো যার জন্য কেনা হবে এসব উড়োজাহাজ, সেই ‘বিমান’ কিছুই জানে না বলে গণমাধ্যমকে জানায়। এরপর গত ৩০ ডিসেম্বর বিমান পরিচালনা পর্ষদে ১৪টি বোয়িং কেনার ‘নীতিগত’ সিদ্ধান্ত হয়। খবর বিডিনিউজের।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আর ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের চাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বিমানের ক্রয়াদেশ যাচ্ছে বোয়িংয়ের ব্যাগে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ফ্রান্সের কোম্পানি এয়ারবাস থেকে ১০টি বড় উড়োজাহাজ ‘কেনার প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে।

এয়ারবাস থেকে আটটি যাত্রীবাহী ও দুটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ কেনার বিষয় ‘পর্যালোচনার’ মধ্যে আমেরিকান কোম্পানি বোয়িংও তৎপর হয়ে ওঠে। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে দুপক্ষেরই দেনদরবার চলে। এর মধ্যেই ২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছর হোয়াইট হাউজে বসেই যে বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করেন, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। ট্রাম্পের ৩৫ শতাংশ শুল্কের মধ্যে গত বছরের জুলাইয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার।

চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, বিমানের পর্ষদ চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেইন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এবং বোয়িংয়ের সেলস ও মার্কেটিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘি উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপটিয়ায় সাবেক চেয়ারম্যান জসিম জামিনে মুক্তি
পরবর্তী নিবন্ধক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় প্রবর্তক-মেডিকেল এলাকার ব্যবসায়ীরা