ফটিকছড়িতে ভোররাতে কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের ওপর নৃশংস সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দলের গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন এক ব্যবসায়ী। ডাকাতরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা লুটে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। গত বুধবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে ফটিকছড়ি পৌরসভার বিবিরহাট থেকে কাজিরহাট যাওয়ার পথে অজ্ঞাত স্থানে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফটিকছড়ি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের আব্দুর রহমান টেন্ডল বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ মোজাহেরসহ ৩ জন ব্যবসায়ী ভোর ৫টায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে ভূজপুরের কাজিরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা পাইকারি দরে মরিচ কেনার জন্য নগদ টাকা সাথে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
সিএনজিটি কাজিরহাটের কাছাকাছি পৌঁছালে কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্ত্র ডাকাত তাদের গতিপথ রোধ করে। ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে সবার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিলে ডাকাতরা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মোজাহেরকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং ধারালো ছুরি দিয়ে তার কানের নিচের অংশ কেটে ফেলে।
আহত মোজাহের জানান, আমাদের চিৎকার শুনে সামনে থেকে আরেকটি সিএনজি আমাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে ডাকাতরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি (ফায়ার) ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ফলে উদ্ধারকারী সিএনজিটি পিছু হটতে বাধ্য হয়। ডাকাত দল মোহাম্মদ মোজাহেরের কাছ থেকে ৬৩ হাজার টাকা এবং সাথে থাকা অন্য দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট প্রায় ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমেই আমি প্রথম সংবাদটি পেয়েছি। আহতদের সাথে কথা বলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, ঘটনাটি কাজিরহাট বা ভূজপুর সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে জানান, ডাকাত বা চোরেরা সাধারণত রাতের সময়টাতে ডাকাতি না করে ভোরের সময়টাকে বেছে নিয়েছে, কারণ তখন সবাই ঘুমে থাকে এবং চারদিক নীরব থাকে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো ভূজপুর এলাকায় ভোর ও সকালের শিফটেও পুলিশের বিশেষ টহল টিম বাড়ানো হবে।








