প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার

| শুক্রবার , ৫ জুন, ২০২৬ at ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় সচিবালয়ের একজন আউটসোর্সিং কর্মীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, সচিবালয়ে ওই ভবন থেকে টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে দিয়েছিলেন ওই আউটসোর্সিং কর্মী। গ্রেপ্তার আউটসোর্সিং কর্মীর নাম রঞ্জন চন্দ্র (২৬)। যে ভাঙারি ব্যবসায়ী তার কিনেছেন, সেই রেজাকুল ইসলামকেও (৩২) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। খবর বিডিনিউজের।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সচিবালয়ে তার চুরির বিষয়ে প্রথম দিন থেকেই আমাদের তদন্ত অব্যাহত ছিল। এবং আজকে ৪ তারিখ দুপুরে আমরা এই তার চুরির রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারি এবং এই তার চুরির সাথে সম্পৃক্ত সচিবালয়ের একজন আউটসোর্স সদস্য, যার নাম রঞ্জন চন্দ্র, তাকে আমরা গ্রেপ্তার করি। সে এই তারগুলো যেখানে বিক্রি করেছে, সেই ভাঙারি দোকান থেকে আমরা আট কেজির মত তার উদ্ধার করি এবং সেই ভাঙারি দোকানদার, যিনি তারগুলো কেনেন তাকে আমরা গ্রেপ্তার করি। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরির এ ঘটনা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে পাওয়া তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণ করে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রঞ্জন ঘটনার ‘দায় স্বীকার করে নেন’ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রঞ্জন বলেছেন, ২২ মে শুক্রবার সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি তামার তার চুরি করেন এবং তিনদিন পর সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার বিক্রি করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি দল অভিযান চালিয়ে একুশে হল সংলগ্ন ভাঙারি দোকান থেকে রেজাকুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করে। পরে চকবাজার থানার হোসেনী দালান রোড এলাকায় একটি ভাঙারি গুদামে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়। এবারের কোরবানির ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে। সাত দিনের ছুটি শেষে সোমবার অফিস খোলার পর সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা দেখতে পান, ওই লাল টেলিফোনে সংযোগ নেই। বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা এসে কয়েক ঘণ্টা পর সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন।

বিটিসিএলের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বলেন, ওই লাল টেলিফোনের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি কথা বলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার বাদী হয়ে সোমবার শাহবাগ থানায় জিডি করেন। সেখানে বলা হয়, সচিবালয়ের পুরাতন এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবন পর্যন্ত টেলিযোগাযোগের কপার কেবল ছিল। এই কেবলের মাধ্যমেই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোন নম্বরসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল। জিডিতে বলা হয়, ভবনের ছাদে কপার কেবল ‘দুর্বৃত্তরা’ কেটে ফেলে। ফলে ওই লাল টেলিফোন নম্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপল্লবীতে আরেক নারীর গলিত লাশ উদ্ধার, স্বামী ও সন্তানরা কানাডা প্রবাসী
পরবর্তী নিবন্ধসিএন্ডএফ এজেন্টদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে চসিকের অস্থায়ী বুথ স্থাপনের নির্দেশ মেয়রের