ঢাকার পল্লবী এলাকায় নিঃসঙ্গ জীবন–যাপন করা এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সেখানকার আরেক বাসা থেকে এক নারীর পচা–গলা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আনুমানিক ৫৫ বছর বয়সি এই নারীর নাম সেলিনা আফরোজ; তার স্বামী মমিনুল হক ও তিন সন্তান কানাডা প্রবাসী। খবর বিডিনিউজের।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ খবর পেয়ে বুধবার ভোরে পল্লবীর সেকশন ৬ এলাকার ১০ নম্বর সড়কের একটি বাসার তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে লাশটি উদ্ধারের কথা জানান পল্লবী থানার পরিদর্শক এমদাদ।ম তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার গভীর রাতে আমরা ৯৯৯–এ খবর পাই। এরপর বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাই। লাশ দেখে মনে হয়েছে, বেশ কয়েকদিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
পুলিশ বলছে, সেলিনা আফরোজের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। স্বামী–সন্তানদের সঙ্গে তিনিও কানাডা থাকতেন। বছর আট–দশেক আগে দেশে ফিরে পল্লবীতে বাবার বাসার ওই ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকছিলেন। ওই বাসার চতুর্থ তলায় তার আরেক বোন পরিবারসহ থাকেন।
পল্লবী থানার এসআই মোবারক আলী বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ৮–১০ বছর আগে দেশে ফিরে ওই বাসায় একাই বসবাস করে আসছিলেন সেলিনা আফরোজ। কোনো কাজের লোক ছিল না, নিজেই বাজার সদাই করতেন। নিজেই রান্নাবান্না করতেন। বাসাটিও অনেক নোংরা ছিল। গত ২৬ মে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মৃত সেলিনা আফরোজের সঙ্গে তার ভাতিজার সর্বশেষ কথা হয়। এরপর আর তার কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।’
লাশের ময়নাতদন্তের পর বুধবারই স্বজনরা ওই বাসার কাছের ‘জান্নাতুল মাওয়া কবরস্থানে’ দাফন করেছেন বলে জানান তিনি। দরজা ভেঙে লাশটি বাসার ডাইনিং রুমে পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানান এসআই মোবারক। তিনি বলেন, ‘তার নাম–মুখে রক্ত ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। আমরা ধারণা করছি, উনি গোসল করছিলেন। বাথরুমে পানির টেপ ছাড়া ছিল। কোনো কারণে বাথরুম থেকে বের হয়ে হয়তো পড়ে যান, ওই অবস্থাতেই তিনি মারা গেছেন।’












